মাদক কারবারের রহস্যভেদে বিরাট সাফল্য পুলিশের! উদ্ধার ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ও সোনা, গ্রেফতার ৩!

মাদক কারবারের তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় পুলিশকর্মীদের। রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানে মালদহের পুরাতন মালদা এলাকার একটি ফ্ল্যাট এবং গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ, ২০ লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ এবং সোনা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুরাতন মালদার যোগসূত্র পায় পুলিশ। এই সূত্র ধরেই রবিবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা থানার যৌথ পুলিশবাহিনী পুরাতন মালদা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় হানা দেয়। চলে দীর্ঘ তল্লাশি।

অভিযানের প্রথম ধাপে খইহাট্টা এলাকার একটি গোডাউনে হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ২০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ। এরপর মঙ্গলবাড়ি এলাকার পিন্টু সরকার নামে এক ব্যক্তির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৩০ টাকা নগদ এবং ২০ গ্রাম সোনা। ভোর চারটে পর্যন্ত টাকা গোনা ও জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করার কাজ চলে।

এই ঘটনায় পিন্টু সরকার ছাড়াও গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে আরও দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত তিনজনই পুরাতন মালদার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বছরখানেক আগে মঙ্গলবাড়ির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন পিন্টু। তাঁর আদি বাড়ি পুরাতন মালদার নবাবগঞ্জ এলাকায়। প্রতিবেশীদের দাবি, ফ্ল্যাটটি বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকত এবং পিন্টু একাই সেখানে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিশেষ কথা হতো না।

বুনিয়াদপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানান, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা, সোনা এবং নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ সবই মাদক কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এই চক্রের সঙ্গে কোনো আন্তঃরাজ্য চোরাচালান নেটওয়ার্ক বা বড় কোনো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থের উৎস কী এবং ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক কে, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।