হাতিয়ায় ভুয়ো ডিডিসিআর চক্র ফাঁস! রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি টাকার সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল টুলু?

হাতিয়ায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযানে টুলুর গোপন গোডাউন থেকে একটি ভুয়ো ডিডিসিআর (DCR) প্রিন্টিং মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই বিশাল দুর্নীতির নেপথ্য কাহিনি উন্মোচন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগারকে ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, হাতিয়ার একটি নির্দিষ্ট টোল গেটের কাছাকাছি এলাকায় টুলুর লোকজন একটি অফিস তৈরি করেছিল। ওই অফিস থেকেই প্রথমে আসল বা অরিজিনাল ডিডিসিআর তৈরি করা হতো। সেই সরকারি নথিতে নিখুঁতভাবে উল্লেখ থাকত যে কোন নির্দিষ্ট লরিতে ঠিক কী পরিমাণ পাথর বা স্টোন চিপস পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু আসল নথির সমান্তরালেই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব ও বেআইনি ফন্দি আঁটা হয়েছিল।

আসল তথ্যের পাশাপাশি তৈরি করা হতো ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো ডিডিসিআর। এই ভুয়ো নথির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কর বা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া। লরিতে আসল চালানে থাকা পাথরের পরিমাণকে অনেক বেশি দেখিয়েও, ভুয়ো নথিতে তা অত্যন্ত কম করে উল্লেখ করা হতো। এর ফলে কম পরিমাণ পাথরের হিসেব দেখিয়ে নামমাত্র রয়্যালটি বা কর দিয়ে পার পেয়ে যেত লরিগুলি, আর পকেটে পুরত অবৈধ উপার্জনের মোটা টাকা।

এই জালিয়াতি চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। টুলুর গোডাউন থেকে প্রিন্টিং মেশিন উদ্ধারের পর এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি রাজস্ব লুঠের এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং খুব শীঘ্রই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।