কী কী তথ্য জানাতে হবে জনগণনায়? জানুন সরকারি নির্দেশিকা ও ফর্ম পূরণের খুঁটিনাটি!

শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে জাতিভিত্তিক জনগণনা প্রক্রিয়া। এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল-ফার্স্ট পদ্ধতি গ্রহণ করেছে সরকার, যার ফলে নাগরিকদের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ সেল্ফ এনুমারেশন বা নিজে তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ১৫ দিন নির্দিষ্ট পোর্টালে এই সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া চালু থাকবে। এরপরে আগামী ১৬ অগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য ভেরিফিকেশন বা যাচাই করবেন সরকারি প্রতিনিধিরা।
নিজেদের তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নাগরিকদের নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://se.census.gov.in-এ প্রবেশ করতে হবে। পোর্টালে ঢোকার পর ব্যবহারকারীদের মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নমালায় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেঝে, দেওয়াল এবং ছাদ কী উপাদান দিয়ে তৈরি, সেই সংক্রান্ত তথ্য। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের কাঠামোগত তথ্য জমা দেওয়ার পর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।
পাশাপাশি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক যেমন পানীয় জলের প্রধান উৎস, রান্নার জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি, শৌচাগার ও নিকাশি ব্যবস্থা এবং ঘরের আলো সংক্রান্ত তথ্যও জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, পারিবারিক আয়ের হিসাব এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিবরণও এই সেল্ফ এনুমারেশন পর্বে উল্লেখ করতে হবে। শনিবার এই প্রক্রিয়ার সূচনা করে পোর্টালে নিজের তথ্য নিজে আপলোড করেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমস্ত তথ্যই যাচাই করবেন।
ডিজিটাল এই জনগণনায় নাগরিকদের জন্য সম্ভাব্য ৩৩টি প্রশ্নের একটি বিস্তৃত তালিকা রয়েছে। এই তালিকায় বাড়ি নম্বর, সেনসাস হাউস নম্বর, বাড়িটির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য এবং সম্পত্তির বর্তমান অবস্থার মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা, পরিবারের প্রধানের লিঙ্গ পরিচয় এবং পরিবারের সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট তফসিলি জাতি, উপজাতি বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত কি না, তাও জানাতে হবে। এছাড়া বাড়ির মালিকানা কার নামে রয়েছে এবং বাড়িতে মোট কতগুলি ঘর আছে, সেই তথ্যও দিতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের বৈবাহিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি পানীয় জল সংক্রান্ত নানান খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং শৌচাগারের উপস্থিতি ও তার ধরণ সম্পর্কেও প্রশ্ন রাখা হয়েছে। বর্জ্য জল নির্গমনের পথ এবং স্নানের সুবিধার মতো বিষয়গুলিও এই তালিকায় রয়েছে। রান্নাঘর, এলপিজি বা পিএনজি সংযোগ এবং রান্নার জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির ধরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাপতে বাড়িতে রেডিও, ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং টেলিফোন বা স্মার্টফোনের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য সাইকেল, স্কুটার, মোটরসাইকেল, মোপেড বা গাড়ি রয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারে প্রধানত কী ধরণের শস্য খাওয়া হয় এবং যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও এই সেল্ফ এনুমারেশন পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়িতে মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা পোর্টালে নিজেদের তথ্য আপলোড করে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। সেল্ফ এনুমারেশনের প্রাথমিক পর্ব শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এনুমারেটররা সরাসরি বাড়ি গিয়ে সমস্ত তথ্য যাচাই করে নেবেন।