হাইকোর্টের কড়া অবস্থানে ২১ জুলাইয়ের সভা; অন্যদিকে পাসপোর্ট জালিয়াতিতে পাক নাগরিক আজাদের জালনোট, আতঙ্কে বাংলা!

একই দিনে দুটি ভিন্ন ঘটনায় রাজ্য জুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে পাসপোর্ট জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক পাক নাগরিকের সঙ্গে বাংলাদেশের সন্দেহভাজন যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
২১শে জুলাইয়ের সভা: হাইকোর্টের কড়া বার্তা
তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ প্রতি বছরই কলকাতার রাজপথে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি করে, যার জেরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এই বছরও হাইকোর্ট এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে মুচলেকা দিয়ে বলতে বলুন যে কোনো যানজট হবে না।” রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয় যে, ২১শে জুলাইয়ের আগে মামলা হয়, তারপর মামলা নিয়ে তারা ভুলে যান, এবং এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে। জবাবে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ছুটি ঘোষণা করুন, মানুষ কতদিন সহ্য করবেন?” বিচারপতির এই মন্তব্য রাজ্য সরকারের ওপর যানজটমুক্ত সভা আয়োজনের চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হাইকোর্ট সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পাসপোর্ট জালিয়াতি: পাক নাগরিক আজাদের সন্দেহজনক নেটওয়ার্ক
এদিকে, পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাক নাগরিক আজাদ মল্লিকের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছে বলে দাবি করেছে। ED সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে এসেছে বাংলাদেশের ২৮টি মোবাইল নম্বর, যেগুলিতে আজাদের একাধিকবার ফোনালাপের প্রমাণ মিলেছে। ED আশঙ্কা করছে, আজাদ মল্লিক ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করানোর জন্য বাংলাদেশে একটি বড় র্যাকেট চালাত।
এই ২৮টি মোবাইল নম্বরের তালিকা ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। ED জানতে চায়, এই নম্বরগুলি কাদের এবং শুধুমাত্র অনুপ্রবেশই এর উদ্দেশ্য ছিল, নাকি জঙ্গি ঢোকানোর মতো আরও গুরুতর উদ্দেশ্যও এর পেছনে ছিল। এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে।
এছাড়াও, ED-র দাবি, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আজাদ মল্লিকের স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। এই বিশাল আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও ED খতিয়ে দেখছে। এই অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং সীমান্ত পারের অপরাধমূলক কার্যকলাপ রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
দুটি ঘটনাই রাজ্যের প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে রাজনৈতিক সভার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা – উভয় ক্ষেত্রেই রাজ্যকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।