“যখন আমি মারা যাব, তখন এই গানটি বাজবে”, জুবিন গর্গের শেষ ইচ্ছা পূরণে ভাইরাল ‘মায়াবিনী’

কিংবদন্তী গায়ক জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ আসাম। প্রিয় শিল্পীকে এভাবে হারিয়ে ভক্তকূল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, কেউই এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। সামাজিক মাধ্যমে জুবিনের মৃত্যুর শোকের দৃশ্য হৃদয়বিদারক। এই শোকের আবহেই তার প্রিয় গান, ‘মায়াবিনী রাতির বুকুত’ গোটা আসামের শোকসঙ্গীত হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে জুবিন বড়ঠাকুরের (আসল নাম)। ৫২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় গায়কের মরদেহ রবিবার সিঙ্গাপুর থেকে গুয়াহাটির অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়, যেখানে কয়েক লক্ষ ভক্ত তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

২০১৯ সালে এক কনসার্টে জুবিন নিজেই বলেছিলেন, “এই গানটি আমার ফ্যান্টাসি। যখন আমি মারা যাব, তখন এই গানটি বাজবে। এটি তোমার, আমার এবং সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” তার সেই ইচ্ছা অনুযায়ী, আজ রাজ্যজুড়ে এই গান বারবার বাজানো হয়েছে, যা ভক্তদের আরও আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

শুধু আসাম নয়, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পুনেসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা জড়ো হয়েছেন প্রিয় গায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকেই ‘মায়াবিনী’ গানের সুরে কেঁদেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য ভিডিও, যেখানে ভক্তরা বাড়ির বাইরে, গাড়িতে বা জনবহুল স্থানে এই গান গেয়ে প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

জুবিন গর্গ ছিলেন আসামের পপ সংস্কৃতি ও বিহু সঙ্গীতের এক আইকন। তার গান, আবেগ এবং সমাজের প্রতি তার অবদান তাকে সাধারণ গায়ক ও শিল্পীর চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ‘মায়াবিনী রাতির বুকুত’ আজ আসামের মানুষের কাছে তার প্রতি ভালোবাসার এক অমর প্রতীক হয়ে আছে।