মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গুঁড়িয়ে দিল ভারত! বাড়ল রাশিয়ান তেলের আমদানি, ট্রাম্পের সুর নরমের আসল রহস্য ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ, কয়েক দিন আগেও তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। রাশিয়ান তেল আমদানির জন্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ভারতকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু ভারতের অনমনীয় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সুর নরম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমেরিকা ভারতের পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে ভারত এই চাপে মাথা নত করেনি। বরং রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলস্বরূপ, সেপ্টেম্বরের প্রথম পক্ষকালে ভারতীয় বন্দরে রুশ তেলের চালান জুলাই ও আগস্টের চেয়েও বেশি পৌঁছেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত প্রতিদিন গড়ে ১.৭৩ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে, যা জুলাই এবং আগস্টের চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্কের প্রকৃত প্রভাব বোঝার জন্য সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরের আমদানির পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়ান তেলের চুক্তি সাধারণত ৬-৮ সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত হয়। তাই সেপ্টেম্বরের শুরুতে যে তেল সরবরাহ হয়েছে, তা মূলত জুলাইয়ে বুক করা হয়েছিল।
ভারত সরকার প্রথম থেকেই মার্কিন শুল্ককে অযৌক্তিক বলে বর্ণনা করে আসছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আমেরিকা নিজেই ভারতকে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য উৎসাহিত করেছিল, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকে। ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে, যেখানে সবচেয়ে সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তারা কিনবে। যেহেতু রাশিয়ার তেলের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই আমদানি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করে, তখন ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ২%। আজ রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এর মাধ্যমে গত তিন বছরে ভারত কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পেরেছে।