বিরোধী দলনেতার পদে বহাল ঋতব্রত, বিধানসভার প্রথম দিনেই শাসক-বিরোধীর সমীকরণে বড় মোড়

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সমীকরণের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ বহাল থাকার পর, অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই শাসক তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বিরোধী আসনে ঋতব্রত, বিধানসভায় নতুন বিন্যাস হাইকোর্টের নির্দেশের পর এদিন অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী আসনে বসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষণীয়ভাবে, ঋতব্রতের এই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে এদিন ফিরহাদ হাকিমকেও দেখা যায়, যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রের মতো বিধায়কদের পৃথক অবস্থান ও কার্যক্রম অধিবেশনের প্রথম দিনেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কুণাল-শোভনদেবদের বৈঠক অধিবেশন শেষে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে গিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। দীর্ঘ আলোচনার পর কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রধান আশ্বাসসমূহ:

  • হকার উচ্ছেদ নিয়ে মানবিক নীতি: পুনর্বাসন ছাড়া বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হবে না। কুণাল ঘোষ জানান, রাজ্য সরকার রেলের সাথে সমন্বয় রেখে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

  • দমন-পীড়নের অভিযোগ: তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

  • আলাদা ঘরের প্রতিশ্রুতি: বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়কদের জন্য আলাদা ঘর বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক চলাকালীনই তিনি পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলেন।

  • বিতর্কের সুযোগ: অধিবেশনে গঠনমূলক আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

রাজনৈতিক চাপানউতোর বৈঠকের শেষে কুণাল ঘোষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা গঠনমূলক ও সসম্মানে বিরোধিতা করব। দলের টিকিটে জিতে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিজেপির স্পিকারের দয়ায় পিছনের দরজা দিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার আত্মসম্মানহীন রাজনীতি আমরা করি না।”

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই শাসকদলের এই দুই শিবিরের অবস্থান এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কদের এই বৈঠক রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।