ভারতের পাশে দাঁড়াল রাশিয়া, ট্রাম্পের চাপের মুখে মস্কোর বার্তা— ‘আমাদের বন্ধুত্ব ভাঙা অসম্ভব!’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একদিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপাচ্ছেন এবং অন্যদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার জন্য ভারতকে চাপ দিচ্ছেন, ঠিক তখনই মস্কো থেকে এলো এক দৃঢ় আশ্বাসের বার্তা। রুশ বিদেশ মন্ত্রক রবিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং এই সম্পর্ক ভাঙার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

রুশ বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। যারা এই সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে, তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হবে।”

ওয়াশিংটন এবং ন্যাটো দেশগুলোর লাগাতার চাপ, হুঁশিয়ারি এবং হুমকি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি। রাশিয়া এই ঘটনাকে তাদের প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। রুশ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেছে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া—এটাই ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ভিত্তি।”

বর্তমানে এই দুই দেশের সহযোগিতা শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাবেচাতেই সীমাবদ্ধ নেই। মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তি, যৌথ সামরিক ও বেসামরিক উৎপাদন, এমনকি রাশিয়ায় ভারতীয় বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই এই সম্পর্ক প্রসারিত হচ্ছে। এছাড়াও, দুই দেশ একসঙ্গে নতুন মুদ্রা বিনিময়, বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম এবং পরিবহন-লজিস্টিক রুট গড়ে তোলার কাজ করছে।

এমন এক পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর একের পর এক শুল্ক চাপিয়েছে। তারা ২৫% মূল শুল্কের সঙ্গে আরও ২৫% শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে “পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে”। এই অভিযোগকে দিল্লি “অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সবকিছু মিলিয়ে, দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্কের এই দৃঢ়তা এটাই প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক শুল্ক বা আন্তর্জাতিক হুমকি—কোনো কিছুই সাত দশকের এই মজবুত বন্ধুত্বকে ভেঙে দিতে পারবে না।