আপনার সন্তান কি আপনাকে ভয় পায়? পজিটিভ প্যারেন্টিংয়ে বদলে ফেলুন আপনার অভিভাবকত্বের ধরণ

সন্তানের সঙ্গে কেবল রক্ত ও আবেগের সম্পর্কই নয়, একটি যত্নশীল ও সম্মানজনক বন্ধন গড়ে তোলাই হলো পজিটিভ প্যারেন্টিংয়ের মূলমন্ত্র। এটি সন্তানকে নিরাপদ বোধ করায় এবং তার আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। মা-বাবা বা অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গে একটি ‘টিম’ হিসেবে কাজ করলে শিশু সমতা ও সম্মানের পাঠ খুব সহজেই শিখে ফেলে।

পজিটিভ প্যারেন্টিংয়ের পথে প্রথম শর্ত হলো শারীরিক সহিংসতা পুরোপুরি বর্জন করা। আঘাত করা বা ভয় দেখানো শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং তাদের আত্মসম্মান নষ্ট করে। শাস্তির পরিবর্তে শান্ত থেকে সন্তানকে কাজের পরিণতির বিষয়ে শিক্ষা দিন। এছাড়া, ছেলে বা মেয়ের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বা গতানুগতিক ধারণা ভাঙা জরুরি। তাদের শেখান যে, যত্নশীল ও সক্ষম হওয়ার কোনো লিঙ্গ নেই।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ভিডিও গেম বা ভিডিওর চেয়ে সন্তানের জন্য আপনার উপস্থিতি ও মনোযোগ অনেক বেশি মূল্যবান। তাই শিশুদের সামনে স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সময় কাটান। দিনে মাত্র ১০ মিনিটের আন্তরিক সংযোগ (যেমন- একসঙ্গে খেলা বা গল্প করা) শিশুর শৈশবকে অর্থবহ করে তোলে। প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি সমানুভূতি ও বিশ্বাস রাখুন, সঠিক সুযোগ পেলে তারাও সমানভাবে বিকশিত হতে পারে। মনে রাখবেন, শিশুরা আপনাকে দেখেই শেখে। তাই বাড়িতে সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখুন এবং ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভেতর একটি সুস্থ আদর্শ গড়ে তুলুন। আপনার ভালোবাসা, জড়ানো আলিঙ্গন এবং মনোযোগই আপনার সন্তানকে ভবিষ্যতে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।