দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের দাপট: ভিয়েতনামের হাতে উঠতে চলেছে শক্তিশালী ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন ক্রেতা: ভিয়েতনাম হতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ যারা ভারত থেকে এই অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। এর আগে ফিলিপাইন ব্রহ্মোস ক্রয় করে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির ওপর আস্থা দেখিয়েছে।
খরচ সংকোচন ও প্রতিযোগিতা: ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস সাফল্যের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ অনেকটা কমিয়ে এনেছে। কাঁচামালের খরচ ২৪ শতাংশ এবং সামগ্রিক উৎপাদন খরচ ১০ শতাংশ কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই ক্ষেপণাস্ত্র আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে।
‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সাফল্য: দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প যে বিশ্বমানের সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম, ব্রহ্মোস তার জ্বলন্ত প্রমাণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মোস বর্তমানে ভারতের রফতানি পোর্টফোলিওর ‘স্টার প্রোডাক্ট’।
সম্প্রসারিত উৎপাদন: ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভারত এবং রাশিয়া যৌথভাবে উৎপাদন লাইন আরও সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে।
ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য:
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ব্রহ্মোসের গতি, নিখুঁত নিশানায় আঘাত করার ক্ষমতা এবং শক্তিশালী বিধ্বংসী শক্তির প্রতি প্রবল আগ্রহী। ভারত এখন আর কেবল আমদানিকারক দেশ নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম প্রধান অস্ত্র রফতানিকারক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ভিয়েতনাম ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ব্রহ্মোস সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রযুক্তির নিরন্তর উৎকর্ষের ফলে অদূর ভবিষ্যতে এর আরও উন্নত সংস্করণ বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানিকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।