প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরদিনেই উত্তপ্ত মণিপুর, চূড়াচাঁদপুর থানায় হামলা!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের ঠিক পরের দিনই মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার স্থানীয় জনতা চূড়াচাঁদপুর থানায় হামলা চালায় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এই সময় র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়।

কেন এই সহিংসতা?

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য লাগানো ব্যানার ও কাটআউট ছেঁড়ার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। রবিবার সকালে সেই দুই যুবকের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় জনতা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং তারা থানায় হামলার চেষ্টা করে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভের সময় জনতা RAF কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পরে অবশ্য ডিউটি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ওই দুই যুবককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল।

মণিপুরে জাতিগত হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস

গত বছর ৩ মে থেকে মণিপুরে মেইতেই এবং কুকি-জো জনজাতির মধ্যে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিরুদ্ধে কুকি-জো আদিবাসীরা প্রতিবাদ শুরু করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। হাইকোর্টের একটি নির্দেশের পর এই সংঘাত আরও তীব্র হয়, যদিও পরে হাইকোর্ট সেই পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করে নেয়।

এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে সরকারি আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। চূড়াচাঁদপুর, মোরেহ, কাকচিং এবং কাংপোকপি জেলা থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই জনজাতির মধ্যে সংঘাত এড়াতে ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হলেও মাঝে মাঝেই সহিংস ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং তার পরের ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো যে মণিপুরের শান্তি এখনও ভঙ্গুর।