বেঙ্গালুরুতে ফের জাতিবিদ্বেষের শিকার উত্তর-পূর্বের যুবতী! উবার অটোচালকের হাতে নিগৃহীত

বেঙ্গালুরুতে ফের প্রকাশ্যে এল জাতিবিদ্বেষের ভয়াবহ ঘটনা। উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দা এক তরুণী অভিযোগ করেছেন, একটি রাইড বাতিল করাকে কেন্দ্র করে এক উবার অটোচালক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং মারতে উদ্যত হয়েছেন। যুবতী কন্নড় ভাষা বোঝেন না বলাতেই চালকের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বেঙ্গালুরু পুলিশ এবং উবার কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
এন বি নামের ওই যুবতী জানিয়েছেন, গত ২ অক্টোবর এই ঘটনাটি ঘটে। অ্যাপে দেখাচ্ছিল অটোটি তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু চালক সেখানে আসেননি। তিনি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রাইডটি বাতিল করে অন্য একটি অটোতে ওঠেন।

তাঁর অভিযোগ, এর পরেই পবন এইচ এস নামের ওই অটোচালক সেখানে এসে তাঁর পথ আটকান। যুবতী বলেন, “চালক আমার কাছে টাকা দাবি করেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারার চেষ্টা করেন এবং আমার ভিডিয়ো তোলেন।”

জাতিবিদ্বেষের অভিযোগ
যুবতীর পোস্ট করা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তিনি বার বার বলছেন যে তিনি কন্নড় ভাষা বোঝেন না, তবুও চালক ক্রমাগত তাঁকে সেই ভাষাতেই গালাগালি করে চলেছেন। ভিডিয়োতে তাঁকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “আমি উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে এসেছি বলেই উনি আমার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করছেন।”

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন এক পর্যায়ে চালক তাঁকে মারতে উদ্যত হন। তখন আতঙ্কিত যুবতী চিৎকার করে অটোর রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি পড়তে শুরু করেন এবং আর্তনাদ করে বলতে থাকেন, “উনি আমাকে মারার চেষ্টা করছেন।”

পরে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ওই যুবতী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আমরা নিজের দেশেও সুরক্ষিত নই।”

পুলিশ ও উবারের পদক্ষেপ
ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পরেই বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ নড়েচড়ে বসে। তারা যুবতীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার স্থান এবং তাঁর ফোন নম্বর জানতে চেয়েছে।

অন্যদিকে, রাইড-হেলিং অ্যাপ উবার (Uber) কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় দ্রুত ক্ষমা চেয়েছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, “এই আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যা ঘটেছে, তার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।” বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য তাদের একটি বিশেষ দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।