‘বাথরুমে গেলে বমি পাবে!’ মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের আসল চিত্র ফাঁস. স্বাস্থ্যভবনে নড়চড়

রাজ্যের প্রায় প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল চত্বরে অনিয়ম এবং জবরদখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার বছর পার হয়ে গেলেও অনেকে বছরের পর বছর ধরে হস্টেলের রুম দখল করে বসে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি কিছু রুমকে ঘিরে নেশার কারবার চলার অভিযোগও উঠেছে, যার জেরে চরম সমস্যায় পড়ছেন সদ্য ভরতি হওয়া নতুন ছাত্রছাত্রীরা। এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে ডিরেক্টর অব মেডিক্যাল এডুকেশন বা ডিএমই ডা. ইন্দ্রজিৎ সাহার সঙ্গে দেখা করল রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন (এনএমও)। সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিএমই-কে একটি সুনির্দিষ্ট স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

পুরনোদের জবরদখল ও বেহাল দশা

সংগঠনের সম্পাদক অর্ণপ পাল এই প্রসঙ্গে জানান, অনেক ছাত্র পড়াশোনা শেষ করে ৫ থেকে ১০ বছর আগে পাশ করে বেরিয়ে গিয়েছেন, অথচ তাঁরা এখনও হস্টেলের রুম জবরদখল করে বসে আছেন। প্রায় প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিটি হস্টেলে যে সংখ্যক বেড বা রুম থাকার কথা, তা বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। তার ওপর এই অবৈধ জবরদখলের কারণে গরিব এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা হস্টেলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দুর্নীতির শুরু কোথায়?

হস্টেল রুম বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে ডা. অর্ণপ পাল জানান, অনেক সময় হসপিটাল অথরিটি নতুন কোনো পড়ুয়ার নামে রুম অ্যালট করে দিলেও, সে হস্টেলে গিয়ে দেখে সেখানে অন্য কেউ আগে থেকেই বিছানা দখল করে রয়েছে। তখন বাধ্য হয়ে ওই নতুন ছাত্রছাত্রীদের কলেজেরই কোনো সিনিয়র ‘দালা-দিদি’-র শরণাপন্ন হতে হয়। আর ঠিক এই বিন্দু থেকেই হস্টেলের অন্দরে দুর্নীতির কালো ছায়া দীর্ঘায়িত হতে শুরু করে। এই অপসংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠন।

স্বচ্ছতা ও সচ্ছ্বতার দাবি

হস্টেল পরিচালনার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালুর দাবি জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হস্টেলের রুম সম্পূর্ণভাবে কলেজ অথরিটি বা কলেজ বডিকেই অ্যালট করতে হবে। রুম বন্টনের এই প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই যেন ছাত্র সংসদ বা কোনো ছাত্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকে।

পাশাপাশি হস্টেলগুলির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। হস্টেলের শৌচাগারগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে ডা. অর্ণপ জানান, অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে শৌচাগারে গেলে বমি পেয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাফাইকর্মীর সংখ্যা কম থাকায় হস্টেলগুলি কার্যত ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে এই পরিস্থিতির বদল দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ শোনার পর নতুন পড়ুয়াদের ভরতির আগেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সচেষ্ট হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। এখন দেখার কবে এই দীর্ঘমেয়াদী হস্টেল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে পায় প্রশাসন।