নেতানিয়াহুকে বড় ধাক্কা দিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! জরিপে ভরাডুবি দেখেই কি হাতছাড়া করছেন বন্ধুকে?

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা দিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্য সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তিনি। মূলত ইসরায়েলি জনগণের পরিবর্তিত মনোভাব এবং জনমত সমীক্ষার ফলাফল দেখেই এই অবস্থান পরিবর্তন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি নেতানিয়াহু যখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসের তরফে তাঁকে এই বার্তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আগামী অক্টোবরেই ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সমীক্ষার রিপোর্ট দেখেই মেজাজ বদল ট্রাম্পের

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি কি নির্বাচনে জিতছেন?” এই প্রশ্নের মুখে একেবারে নীরব হয়ে যান নেতানিয়াহু। যদিও বৈঠকে উপস্থিত অন্য সহযোগীরা তাঁর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত যতগুলি প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা বা জনমত প্রকাশ পেয়েছে, তার প্রতিটিতেই নেতানিয়াহুকে যথেষ্ট পিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার বা প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের তুলনায় তিনি বর্তমান বিরোধীদের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোট, ইয়ার লাপিদ এবং নাফতালি বেনেটের মতো বিরোধী নেতারা ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে আইজেনকোটকে সমীক্ষায় সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলস্বরূপ, ইসরায়েলি জনগণের জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে বা ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ করতে নারাজ মার্কিন প্রশাসন।

লেবানন নীতি নিয়ে অসন্তোষ

ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে পছন্দ করলেও তাঁর বেশ কিছু নীতির সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমি চাইলে বিবিকে ধ্বংস করে দিতাম।” মূলত নেতানিয়াহুর লেবানন নীতি এবং গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন চলছে। এর পাশাপাশি অতীতে হাঙ্গেরির নির্বাচনে ট্রাম্প ভিক্টর ওরবানকে সমর্থন করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত হেরে যান। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের স্ট্র্যাটেজি বদল করে এখন অনেকটাই ফুঁকে পা ফেলতে চাইছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।