হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল বিমান! মাঝ আকাশে ঠিক কী হয়েছিল? ফাঁস হল এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার আসল রহস্য

মাঝ আকাশে চরম আতঙ্কের মুখে পড়েছিল ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট (এআই ২৩৭৯)। আকাশে ওড়ার পরেই বিমানটি হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলত বসে। তবে শেষ পর্যন্ত পাইলটদের চরম দক্ষতায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বিমানটি এবং দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। সম্প্রতি এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিমান নির্মাতা সংস্থা এয়ারবাস।
কেন হঠাৎ নিচে নেমে গেল বিমান?
এয়ারবাসের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটির এই আচরণের মূল কারণ ছিল হাইড্রোলিক সিস্টেমের চাপ কমে যাওয়া। জানা গিয়েছে, উড্ডয়নকালে প্রথমে বিমানটির একটি হাইড্রোলিক সিস্টেম বিকল হয় এবং এর ঠিক পরেই অন্য দুটি সিস্টেমও সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনটি সিস্টেমই পুনরায় সচল হয়ে যায়। অন্তত দুটি প্রেসার সুইচ নিম্ন হাইড্রোলিক অবস্থা প্রদর্শন করায় অ্যাকচুয়েটরগুলি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলেই বিমানটি হঠাৎ ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। তবে এয়ারবাসের প্রাথমিক তদন্তে প্রধান ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে কোনো বড় ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে
ঘটনার সময় ওই বিমানে মোট ১৪৫ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সামান্য আহত হন। বর্তমানে বিমানটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডেড করে রাখা হয়েছে। এয়ারবাসের তরফে এয়ার ইন্ডিয়াকে গ্রিন, ইয়েলো এবং ব্লু হাইড্রোলিক সিস্টেমের ওপর বিশেষ অপারেশনাল চেক করার পাশাপাশি প্রেসার সুইচ ও ট্রান্সডিউসারগুলো দ্রুত পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হাইড্রোলিক সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ডও জমা দিতে বলা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) বা এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবে সমস্ত যাত্রী ও ক্রুরা নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।