‘গোপাল পাঁঠা না থাকলে হিন্দুরা বাঁচত না!’-দেশভাগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

স্বাধীনতার প্রাক্কালে রাজ্যে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হলো ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মৃতি দিবস। দেশভাগের জেরে ঘটে যাওয়া গণহত্যার প্রতিবাদ এবং সেই সময়ের মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করতে রাজ্যপাল আরএন রবির নির্দেশেই এই বিশেষ দিবসের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত এই রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অখণ্ড ভারতের জোরালো সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই। এতদিন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শিবাজি, মহারানা প্রতাপের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁদের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের আরও গভীরভাবে জানতে হবে।”

দুই দিনের বিশেষ প্রদর্শনী ও ইতিহাস স্মরণ

দেশভাগের মানবিক বিপর্যয়, মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য লড়াইকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে ১৩ ও ১৪ অগস্ট—দু’দিনব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেই সময়ের দুর্লভ ঐতিহাসিক ছবি, নথি এবং দেশভাগের বেদনাবিধুর নানা দিক এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।

উত্তর কলকাতাকে বেছে নেওয়ার কারণ ও গোপাল মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ

অনুষ্ঠানে উত্তর কলকাতাকেই কেন এই কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই অঞ্চলটিই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেদিনের সেই দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সেদিন যদি গোপাল মুখোপাধ্যায় (গোপাল পাঁঠা) রুখে না দাঁড়াতেন, তবে বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করা যেত না। কলকাতার যে রাস্তা অতীতে সুরাবর্দি খাঁর নামে ছিল, আমরা তার নাম বদলে সম্মানের সঙ্গে ‘গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ’ করেছি।”

কংগ্রেস ও ইতিহাসের ভূমিকা নিয়ে কড়া আক্রমণ

এদিনের মঞ্চ থেকে বিগত দিনের রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, পুরোনো ইতিহাস সচেতনভাবে মুছে ফেলার বহু চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দেশভাগের নামে সংঘটিত হওয়া ’৪৬-এর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা কিংবা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ সঙ্কটের মতো ঐতিহাসিক সত্যগুলো কখনোই ভোলার নয়। পরিশেষে বোমা-গুলির রাজনীতি ছেড়ে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আদর্শে কেশপুর গড়ে তোলার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।