“পুরোনো পেনশন থেকে ৫ দিনের সপ্তাহ:”-কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে RSS-এর মজদুর সঙ্ঘ

শ্রমিক কল্যাণের বিভিন্ন দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বৃহত্তর আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস পন্থী শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (বিএমএস)। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো ফল না মেলায় আগামী সোমবার, ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে বিশাল শ্রমিক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, সোমবার দেশের সমস্ত রাজ্যের ব্লক এবং জেলা স্তরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও ধরনা প্রদর্শন করবেন বিএমএস-এর সদস্য ও সমর্থকরা। এর পাশাপাশি জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএমএস-এর এই ঘোষণা মোদী সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এমনিতেই রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে সরকার বেশ কিছুদিন ধরে চাপে রয়েছে। নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার দেশের কোটি কোটি কর্মরত শ্রমিকের দাবিকে সামনে রেখে রাজপথে নামছে সঙ্ঘ পরিবারেরই শ্রমিক সংগঠন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে রয়েছে প্রশাসন।

বিএমএস-এর তরফ থেকে বেশ কিছু দাবিকে সামনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে ৫ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা, পুরোনো পেনশন ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা, এবং ঠিকাদার বা ম্যান পাওয়ার সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে মজুরি চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি, অঙ্গনওয়াড়ি, মিড ডে মিল এবং আশা কর্মী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধির দাবিও তোলা হয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নির্দিষ্ট শ্রম বিধির আওতায় আনা হয়নি। এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএমএস। এ ছাড়াও, কর্মচারীদের ভবিষ্যনিধি বা ইপিএফ-এর বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি এবং বাজারদর ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে মাথায় রেখে নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি দেশের সমস্ত রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্যও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে সংগঠন। এর আগে বিএমএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে সরকারের উচ্চ স্তরে একাধিকবার আলোচনা করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। আর সেই কারণেই এ বার সরাসরি আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ।