“সাভারকর মন্তব্য মামলায় বিরাট স্বস্তি পেলেন রাহুল গান্ধী! সুপ্রিম কোর্টে খারিজ ফৌজদারি মামলা”

বীর সাভারকরকে নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য মামলায় বড় আইনি স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শুরুর কোনো রকম আইনি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আর সেই কারণেই আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, “এখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছে।”
এদিন শুনানির সময় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শিশির চন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কেএম নটরাজ। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানতে চান, সাভারকরকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে উত্তরপ্রদেশ সরকার আদৌ কোনো আইনি অভিযোগ বা বিচার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে কি না। জবাবে রাহুলের আইনজীবী জানান যে, সরকারের তরফ থেকে কোনো অনুমোদন বা সায় দেওয়া হয়নি। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করে জানায় যে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এই মামলার শুনানি বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সমন পাঠানোর নির্দেশ বহাল থাকতে পারে? ফলস্বরূপ, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সমন পাঠানোর নির্দেশও এদিন বাতিল করেছে শীর্ষ আদালত।
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে: ২০২২ সালে কংগ্রেসের বহুল আলোচিত ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ চলাকালীন ১৭ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের অলোকা জেলায় একটি জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, বীর সাভারকর ব্রিটিশ শাসকদের কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং চিঠিতে নিজেকে ব্রিটিশদের ‘অনুগত ভৃত্য’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার প্যাটেলের মতো দেশের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে সাভারকর বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেন আইনজীবী নৃপেন্দ্র পাণ্ডে। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাহুল গান্ধী সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ইচ্ছাকৃতভাবে সমাবেশে সাভারকরকে অপমান করেছেন। নিম্ন আদালত তাঁকে তলব করার পাশাপাশি সমন জারি করে। এরপর লখনউ হাইকোর্ট রাহুলকে নিম্ন আদালতে রিভিশন পিটিশন দাখিলের পরামর্শ দিলেও, তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। অবশেষে শীর্ষ আদালতের এই রায়ে আইনি জটিলতা থেকে বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস সাংসদ।