“পটনায় আসছে বিশ্বমানের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার! বিহারের ভাগ্য বদলাতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরীর”

বিশ্ব-বাণিজ্যের মানচিত্রে এবার নতুন করে উঠে আসতে চলেছে বিহার। রাজ্যের রাজধানী পটনাকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের নগরকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী। শহরের লোক সেবক আবাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক উচ্চস্তরীয় পর্যালোচনা বৈঠকে পটনায় একটি ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ তৈরির প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য: রাজধানীর সার্বিক ও সুপরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সরকার একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সোশাল মিডিয়ায় এই প্রকল্পের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, পটনার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি শহরজুড়ে একাধিক টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে। সরকারি সূত্রে খবর:
বিশাল টাউনশিপ: প্রায় দু’হাজার একর জুড়ে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক ‘পাটলিপুত্র টাউনশিপ’। এছাড়া আরও এক হাজার একর জমিতে অন্যান্য নতুন টাউনশিপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরানো ভবনের পুনর্নির্মাণ: রাজধানীর জরাজীর্ণ সরকারি ভবনগুলির জায়গায় তৈরি হবে আধুনিক কমপ্লেক্স।
বিনিয়োগ: এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পগুলিতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগ থেকে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা দেখছে প্রশাসন।
মাস্টার প্ল্যানে কোন কোন এলাকা? ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড (NBCC) এই পুরো প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। বিহার মিউজিয়ামের উল্টোদিকের জমি, গার্ডানিবাগ, ভূতনাথ সেক্টর ৬ এবং বোরিং ক্যানেল রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের বার্তা: কেবল পটনা নয়, বিহারের অন্যান্য প্রধান শহর যেমন গয়া, ভাগলপুর, বেগুসরাই এবং দ্বারভাঙাতেও সরকারি জমি চিহ্নিত করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্য-শূন্য মডেল অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আধিকারিকদের দ্রুত জমি চিহ্নিতকরণ এবং যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিহারের এই রূপান্তর ভারতের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।