বাগডোগরা পৌঁছেই ক্ষোভ উগরে দিলেন শমীক, ‘উত্তরবঙ্গ বরাবর বঞ্চনার শিকার’, কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস দিল বিজেপি।

পাহাড়ে ভয়াবহ ধস ও উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর আক্রমণের মূল কেন্দ্র ছিল— দুর্যোগের দিনে রেড রোডে পুজো কার্নিভালে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি।

“উত্তরে যখন ছেলে মরছে, তখন মা কার্নিভালে”
সোমবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন।

তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গ বরাবর বঞ্চনার শিকার। উত্তরবঙ্গকে কেবলমাত্র ব্যবহার করছে রাজ্য সরকার। তারই প্রমাণ, কলকাতায় কার্নিভাল হচ্ছে আর উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হাহাকার।”

মুখ্যমন্ত্রীর কার্নিভালে উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আরও তীব্র মন্তব্য করেন: “আসল চেহারা কাল কার্নিভালে দেখা গিয়েছে। উত্তরে লোক মরছে, ছেলেরা মরছে আর মা কার্নিভালে। এই সরকারের থেকে কোনও মানবিক পদক্ষেপের আশা করাটাই আসলে মুর্খামি হবে।”

বালি-পাথর মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ‘লুট’-এর অভিযোগ
উত্তরের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি রাজ্য সরকারের অদক্ষতা ও দুর্নীতিকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে কত নেতা, আমলার নামে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে খোঁজ নিন।”

তাঁর অভিযোগ, “বালি, পাথর মাফিয়াদের জন্যই আজ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়। নদী থেকে অবৈধ পাথর, বালি তোলার জন্যই এই পরিস্থিতি। পাশাপাশি জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। বিগত ১৪ বছর ধরে উত্তরবঙ্গে লুট চলছে।”

কেন্দ্রীয় সরকার অসহায় মানুষের পাশে
শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি বাগডোগরা থেকে সড়কপথে ডুয়ার্সের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিনি আশ্বাস দেন, প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের জন্য যারা দোষী, তাদের শাস্তি না হলেও কেন্দ্রীয় সরকার অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন। সবকিছুর খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম ভাবে অসহায় মানুষের পাশে আছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বিজেপির প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি, কার্যকর্তারা মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে।”