“ফোন থেকে উদ্ধার ৮০-৯০টি পর্ন ভিডিও”-জেলেও পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত প্রজ্জ্বল রেভান্না!

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জনতা দল (সেক্যুলার) বা JDS-এর প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্জ্বল রেভান্না। আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। তবে জেলের অন্দরেও যে তাঁর অপরাধমূলক মানসিকতা ও বিলাসিতা কমেনি, তার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক এক অভিযানে। জেলের মধ্যেই অবৈধভাবে ব্যবহার করা তাঁর মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে ডজন ডজন পর্নোগ্রাফি ভিডিও।
স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের তল্লাশিতে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য
সম্প্রতি বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলের হাইপ্রোফাইল বন্দিদের সেলে আকস্মিক তল্লাশি চালায় স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (SCB)। আর সেই তল্লাশিয়েই প্রজ্জ্বল রেভান্নার দখল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়।
তদন্তে নেমে যা জানা গিয়েছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো:
ওই মোবাইল ফোনটিতে ৮০ থেকে ৯০টি পর্নোগ্রাফি ভিডিও ডাউনলোড করা রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কন্টেন্টের বেশিরভাগই ভারতীয় পর্নোগ্রাফি এবং সেখানে একাধিক ভারতীয় মহিলার নগ্ন হওয়ার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।
মোবাইল ফোনটি বাজোপ্ত করার পর ইতিমধ্যেই তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন ভিডিওগুলি কোথা থেকে এল, কবে ডাউনলোড করা হয়েছে এবং বিচারাধীন মামলার সঙ্গে এগুলির কোনো যোগ রয়েছে কি না।
জেলের অন্দরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নতুন এফআইআর
বন্দির কাছে কীভাবে মোবাইল ফোন পৌঁছাল, তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কারা দফতর। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলের সুপারকে শোকজ নোটিশ ধরানো হয়েছে।
প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই তল্লাশিতে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি রেভান্নার সেল থেকে একটি পেনড্রাইভ এবং একটি চার্জারও উদ্ধার করা হয়েছে। এই অবৈধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যেখানে একই জেলে বন্দি এক আন্ডারট্রায়াল বন্দি প্রতাপ রাইয়ের নামও জড়িয়েছে।
আইনি লড়াই ও পটভূমি
সম্প্রতি কর্নাটক হাইকোর্ট হাসান জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম ধর্ষণ মামলায় প্রজ্জ্বল রেভান্নার যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত এবং তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট অভিমত, অপরাধের চরম গুরুত্ব এবং একাধিক যৌন নির্যাতনের মামলা বিচারাধীন থাকায় তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, রেভান্না জেলের বাইরে এলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অগাস্টে বিশেষ আদালত প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন, ভয়্যারিজম (Voyeurism) এবং প্রমাণ নষ্ট করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে ঘিরে বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও রেভান্না বরাবরই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে এসেছেন যে ভিডিওগুলি বিকৃত বা ভুয়ো। বর্তমানে জেলের অন্দরে তাঁর নতুন এই কেলেঙ্কারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।