সরকারি অফিসে ঘুষ নিলেই সরাসরি পড়বে সিবিআইয়ের হাতকড়া! কোন দুটি নম্বরে ফোন করে জানাবেন অভিযোগ?

কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের দুর্নীতি এবং ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা চিরতরে রোধ করতে এবার ময়দানে নেমে পড়েছে দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ পুনরায় বহাল করার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপরতা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করে তুলতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিজাম প্যালেস সহ দেশের বা রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি কার্যালয়ে বড় বড় ব্যানার ও নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ব্যানারগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সরাসরি দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সেখানে নির্দিষ্ট কিছু যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ফোন করে যে কেউ সরাসরি ঘুষ নেওয়ার অভিশাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন। বিশেষত, অভিযোগ জানানোর সময় সাধারণ নাগরিক বা অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, অতীতে সারদা অর্থলগ্নি কেলেঙ্কারি মামলায় তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার প্রক্রিয়ায় সিবিআই অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠলে রাজনৈতিক তরজার জেরে তৎকালীন রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের ওপর থেকে সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর ফলে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন ঘুষ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত করার ক্ষেত্রে বড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ সম্মতি ফের বহাল করা হয়। আর সেই আইনি বাধা কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তাদের পুরনো গতি ফিরে পেয়ে দুর্নীতি দমনে সর্বশক্তি দিয়ে আসরে নেমেছে।

সিবিআইয়ের তরফে সম্প্রতি যে বিশেষ সতর্কবার্তা ও নোটিস জারি করা হয়েছে, তাতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ যেকোনো প্রতিষ্ঠান যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, প্রধান ডাকঘর, ভারতীয় রেলওয়ে, আয়কর বিভাগ বা অন্যান্য যেকোনো সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মী বা আধিকারিক যদি কোনো কাজের বিনিময়ে ঘুষ দাবি করেন, তবে অবিলম্বে সেই খবর কলকাতার নিজাম প্যালেসে অবস্থিত সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখাকে (ACB) জানান।” সাধারণ মানুষ যাতে কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য দুটি নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ল্যান্ডলাইন নম্বর হলো ০৩৩-২২৮৯-৪৪০৩ এবং অন্যটি একটি মোবাইল নম্বর—৯০৫১৬১৩৪৫৬। এই নির্দিষ্ট নম্বরগুলিতে সরাসরি ফোন করে যেকেউ সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

বাস্তব ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায় যে, সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন বিভিন্ন জরুরি সরকারি কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে কিংবা সামান্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র ও নথিপত্র তুলতে গিয়েও বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু সরকারি আধিকারিকদের অসদুপায় ও বেআইনি ঘুষ নেওয়ার খপ্পরে পড়েন। অনেক সময় স্রেফ প্রশাসনিক হেনস্তা বা ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্তরে তোলাবাজি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ মানুষের এই নিত্যদিনের হয়রানি এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কালো ছায়া চিরতরে মুছে ফেলতে সিবিআইয়ের এই সরাসরি নজরদারি এবং কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।