নিম্নচাপের জেরে বাংলায় তুমুল বৃষ্টির দাপট! তবে কি কাটবে দেশের সামগ্রিক বর্ষার ঘাটতি?

গোটা বাংলা জুড়েই এখন প্রতিদিনের সঙ্গী হয়েছে লাগাতার বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আবহাওয়ার এই মেজাজ আরও কিছুদিন অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা পূর্ব ভারতই নয়, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের জেরে দেশের একাধিক অংশে এই মুহূর্তে প্রবল বর্ষা শুরু হয়েছে।
ইসরোর (ISRO) স্যাটেলাইট চিত্রেও ধরা পড়েছে পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ঘন কালো মেঘের স্তর। বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগে ঢুকে পড়া এই নতুন নিম্নচাপটি ক্রমাগত পশ্চিম ও স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে। যার ফলে কেবল বাংলাতেই নয়, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি দেশের সামগ্রিক বর্ষা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি ঘটাতে পারে এবং অনেক জায়গার বৃষ্টির ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করবে।
অগাস্টের প্রথম ১০ দিনে দেশের বর্ষার চিত্র ও ঘাটতির হিসাব
বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ছড়ানোর আশা দেখলেও, অগাস্ট মাসের প্রথম ১০ দিনের পরিসংখ্যান বলছে—ভারতের বর্ষার ‘ইঞ্জিন’ এখনও পুরোপুরি সঠিক ছন্দে নেই।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী:
দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি: ১ থেকে ১০ অগাস্টের মধ্যে সারা দেশে মোট ৮১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৮৯.৮ মিলিমিটার। অর্থাৎ গোটা দেশে এই মুহূর্তে প্রায় ৯ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।
অসমান বৃষ্টিপাত: দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে বর্ষা সক্রিয় নয়। কিছু এলাকায় স্বাভাবিক বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও মধ্য, পশ্চিম এবং উত্তর ভারতের বেশ কিছু অংশে এখনও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা মিলছে না।
দেশের কোন রাজ্যে কী অবস্থা?
ব্যতিক্রম দিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে বৃষ্টির ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে স্বাভাবিক ৬৩.৮ মিলিমিটারের তুলনায় এপর্যন্ত ১৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৪৭ শতাংশ বেশি!
ভালো বৃষ্টির রাজ্যগুলি: বিহারে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অগাস্টের প্রথম ১০ দিনে গুজরাত, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল এবং গোয়াতেও বেশ ভালো মাত্রায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বেহাল দশা যেসব অঞ্চলে: দেশের বেশ কিছু রাজ্যে বর্ষার পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক।
পঞ্জাবে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ।
মহারাষ্ট্রে ঘাটতির পরিমাণ ৩৪ শতাংশ।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানায় প্রায় ২৮ শতাংশ করে ঘাটতি রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের এই নতুন নিম্নচাপটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দেশের ঘাটতি থাকা অঞ্চলগুলিতে কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।