ডিউটি চলাকালীন শৌচাগারেই রহস্যমৃত্যু! এনআরএস হাসপাতালের এই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

কলকাতা শহরের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম চিকিৎসাকেন্দ্র নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (এনআরএস) চত্বর থেকে এক তরুণী নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গোটা স্বাস্থ্যমহলে চরম চাঞ্চল্য ও শৌচাগারে রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার গভীর রাতে হাসপাতালের একটি শৌচাগার থেকে ওই নার্সের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধ দরজা ভেঙে অত্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এন্টালি থানার পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মৃত ওই নার্সের বুধবার রাতে নাইট ডিউটি ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি রাত আটটার সময় হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মীদের কাছ থেকে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, রাত দশটা বেজে কুড়ি মিনিট থেকে দশটা বেজে সাতাশ মিনিটের মধ্যে ওই নার্স হাসপাতালের বাথরুমে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও তিনি শৌচাগার থেকে বাইরে বেরিয়ে না আসায় সহকর্মীদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়েন এবং ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু ভিতর থেকে দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না মেলায় তাঁরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। পুলিশ প্রথমে বাইরে থেকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করে এবং পরে বাধ্য হয়ে জোর করে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নার্সের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে বর্তমানে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। মৃত্যুর আসল কারণ এবং এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে ময়দানে নেমেছে পুলিশ। শেষ কার সঙ্গে ওই নার্সের টেলিফোনে কথা হয়েছিল, তাঁর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পরিবারে আদৌ কোনো মানসিক বা পারিবারিক অশান্তি ছিল কি না, কিংবা কর্মক্ষেত্রে কাজের অতিরিক্ত চাপ বা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না—এই সমস্ত দিকগুলি খতিয়ে দেখতে মৃতের পরিবার এবং সহকর্মীদের সঙ্গেও দফায় দফায় কথা বলছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।