কেশপুরে পুলিশের জালে দাপুটে তৃণমূল নেতা আসিফ ইকবাল! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার

মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার এবং কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মাটির রঙ বদলাতে শুরু করেছে। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আসিফ ইকবাল ওরফে টয়কে জমি সংক্রান্ত মামলা, মারধর, তোলাবাজি ও প্রাণহানির চেষ্টার মতো একাধিক গম্ভীর অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই কেশপুরের মোহবনির সভামঞ্চ থেকে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪ সাল থেকে সভা করতে না দেওয়া, রাজনৈতিক হয়রানি এবং বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। মোদি জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়ার অপরাধে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে মুক্তির নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে, কেশপুরে যারা সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে, গোলাগুলি চালিয়েছে এবং তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর মতো অপরাধে যুক্ত রয়েছে, তাদের পুরনো ফাইল পুনরায় খুলে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বার্তার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে তৎপর হয়ে ওঠে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অবশেষে রাতারাতি গ্রেফতার করা হয় এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে। কেশপুরের পাশাপাশি মেদিনীপুরেও আসিফ ইকবালের একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। অতীতে মেদিনীপুরে পিপলস ব্যাঙ্ক নির্বাচনে বামেদের মনোনয়নে বাধা দেওয়া এবং মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। বিরোধী সিপিএম এবং বিজেপির দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, এই নেতা কেশপুর ও মেদিনীপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে একচ্ছত্র দাপট দেখাতেন।

বুধবার গ্রেফতারের পর দৃত তৃণমূল নেতাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারী পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হলেও, বিচারক দুদিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই বিষয়ে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২১ সাল থেকেই তোলাবাজি, মারধর ও এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস সৃষ্টির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ সাত দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত দুদিনের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশি ঘেরাটোপে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় আসিফ ইকবাল নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন এবং তাঁকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।