প্রবাসে মৃত্যু, দেশে ফিরে হেনস্থা! বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণে কেন এত জটিলতা?

প্রবাসে মৃত্যুর পর শোকের পাহাড় নিয়ে দেশে ফেরা স্বজনদের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছে নতুন আরেক অগ্নিপরীক্ষা। নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে মরদেহ পৌঁছানোর পর দ্রুত তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিমানবন্দরের একটি অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে।

ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা: ১৪ ঘণ্টার লড়াই
সম্প্রতি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গাইবান্ধার ওমর ফারুকের মরদেহ দেশে আনার পর তাঁর ভায়রা নূর ইসলাম যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা প্রবাসীদের পরিবারের করুণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে। তিনি বলেন, “কাগজের জটিলতা আর বিভিন্ন দপ্তরের অজুহাতে ১৪ ঘণ্টা বিমানবন্দর আটকে থাকতে হয়েছে। স্বজন হারানোর শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল মরদেহ বুঝে পাওয়ার লড়াই।”

সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতা
অন্যদিকে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, মরদেহ গ্রহণে অহেতুক বিলম্ব বা হেনস্থার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। তাঁর কথায়, “প্রবাসীর মৃত্যু যেভাবেই হোক, দেশে পৌঁছানো মাত্রই পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে দাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।”

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে এখন বিনামূল্যে প্রবাসীদের মরদেহ নিজ এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি স্বজনদের সহায়তায় নতুন অ্যাম্বুলেন্সও যুক্ত করা হয়েছে।

জটিলতা কোথায়?
সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এই ভোগান্তি? অনুসন্ধানে জানা গেছে:

কাগজপত্রের সংকট: অনেক সময় গ্রাম থেকে আসা স্বজনরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন।

দালাল চক্রের সক্রিয়তা: এই সুযোগটিই কাজে লাগায় বিমানবন্দরের ভেতরে ও আশেপাশে সক্রিয় থাকা একটি অসাধু চক্র।

ভুল বোঝাবুঝি: তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঠিক সার্টিফিকেট যাদের থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি কম হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রয়োজন সচেতনতা ও স্বচ্ছতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের মরদেহ পরিবহনের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারি তদারকি আরও বাড়ানো জরুরি। সরকারি সংস্থা ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি পরিবারগুলোকে প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে আগাম সচেতন করতে পারে এবং বিমানবন্দরে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা নিশ্চিত করা যায়, তবেই হয়তো শোকাতুর পরিবারগুলো এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে পারে।