রান্নাঘরেই বিপদ লুকিয়ে? গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে মেনে চলুন ভারত গ্যাসের এই ৫টি জরুরি নিয়ম

আপনার রান্নাঘরের এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারটি কি সত্যিই সুরক্ষিত? অসাবধানতার বশেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রান্নার গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে থাকে। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থা ‘ভারত গ্যাস’ ব্যবহারকারীদের জন্য পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাবিধি প্রকাশ করেছে। প্রতিটি পরিবারের এই নিয়মগুলো মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।

সুরক্ষায় ভারত গ্যাসের ৫টি পরামর্শ:

১. ওভেনের সঠিক অবস্থান: অনেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু ওভেনের সঠিক বসানো অত্যন্ত জরুরি। রান্নার গ্যাসের ওভেন সবসময় এলপিজি সিলিন্ডারের চেয়ে উঁচুতে বসাতে হবে। ওভেনটি যেন কোনো একটি শক্ত ও মজবুত প্ল্যাটফর্মের ওপর থাকে, তা নিশ্চিত করুন।

২. নতুন সিলিন্ডার গ্রহণের সতর্কতা: নতুন সিলিন্ডার বাড়িতে আসার পর ডেলিভারি বয়ের সামনেই তা পরীক্ষা করে নিন। সিলিন্ডারের ওজন সঠিক আছে কি না এবং তাতে কোনো ছিদ্র বা গ্যাস লিকেজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক।

৩. রেগুলেটর বন্ধ রাখার অভ্যাস: রান্নার পর অনেকেই মেইন নফ বা রেগুলেটর বন্ধ করতে ভুলে যান। এটি একটি বড় ভুল। প্রতিটি রান্না শেষে গ্যাসের নব অবশ্যই বন্ধ করুন। বিশেষ করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। এটি করলে গ্যাস লিকেজের ঝুঁকি বহুগুণ কমে যায়।

৪. নিয়মিত টেকনিক্যাল পরীক্ষা: বাড়ির পুরো এলপিজি কানেকশন ও ইনস্টলেশন ব্যবস্থা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একজন রেজিস্টার্ড ও দক্ষ টেকনিশিয়ানকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। পুরোনো পাইপ বা ত্রুটিপূর্ণ রেগুলেটর থেকে বড় বিপদ ঘটতে পারে।

৫. গ্যাসের গন্ধ পেলে করণীয়: রান্নাঘরে যদি গ্যাসের তীব্র গন্ধ পান, তবে আতঙ্কিত হবেন না। প্রথমেই রেগুলেটরটি বন্ধ করুন। সেই মুহূর্তে ভুলেও কোনো ইলেকট্রিক সুইচ অন বা অফ করবেন না। লাইটার বা দেশলাই জ্বালাবেন না। কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং অবিলম্বে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বা এমার্জেন্সি হেল্পলাইনে খবর দিন।

গ্যাস লিক হলে কী করবেন?
আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখুন। ঘরের সব দরজা ও জানালা তৎক্ষণাৎ খুলে দিন যাতে জমে থাকা গ্যাস দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। গ্যাস বের হওয়ার পথ তৈরি করুন। মনে রাখবেন, এই পরিস্থিতিতে দেশলাই, লাইটার বা কোনো ইলেকট্রিক প্লাগ ও সুইচে হাত দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সি অথবা এমার্জেন্সি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার পরিবারকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে। আজই এই সুরক্ষাবিধিগুলো আপনার বাড়িতেও অনুসরণ করতে শুরু করুন।