রাতের ঘুম কি ক্যান্সারের কারণ? তরুণীদের জন্য সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা!

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য, কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, অপর্যাপ্ত ঘুম ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (ASCO)-এর জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার প্রবণতার নেপথ্যে ঘুমের অভাবকে অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গবেষকদের মতে, ঘুমের সময় শরীর টিস্যু মেরামত ও হরমোন নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে। অনিদ্রা বা ঘুমের মান খারাপ হলে এই প্রক্রিয়াগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের পথ প্রশস্ত করে। এছাড়া, ঘুমের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শরীর অস্বাভাবিক কোষ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি বর্তমান প্রজন্মের ঘুমের গুণমান কমিয়ে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা ঘুমের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। গর্ভাবস্থা, হরমোনের পরিবর্তন এবং মেনোপজের মতো শারীরিক অবস্থা তাদের ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করে, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
গবেষণাটি সরাসরি অনিদ্রাকে ক্যান্সারের একমাত্র কারণ না বললেও, সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুমকে পুষ্টি ও শারীরিক ব্যায়ামের মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রাকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক জীবনধারা ও ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তনই পারে এই ঝুঁকি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে।