পণের দাবিতে নারকীয় অত্যাচার! অম্বরনাথে নববধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

বিয়ের বয়স তখন মাত্র ৪৭ দিন। জীবন সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে নতুন সংসারে পা রাখা বিশাখা তিলকরের পরিণতি হলো মর্মান্তিক। মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ২৬ বছর বয়সি এই তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা পণের দাবিতে নির্যাতনের এক চরম রূপকে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল। বিশাখার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে এই দম্পতিকে দিনের পর দিন অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

সিসিটিভি ক্যামেরায় দমবন্ধ জীবন:
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতার স্বামী ডাঃ নীতিন তিলকর স্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখতে গোটা বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। ঘরের ভেতর থেকে বাড়ির বাইরে—কোথায় বিশাখা কার সঙ্গে কথা বলছেন, কী করছেন, তার খুঁটিনাটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেই ট্র্যাক করতেন নীতিন। প্রতিবেশীর সঙ্গে সামান্য কথা বললেই বিশাখাকে হতে হতো নির্মম মারধরের শিকার। বিশাখার বাপের বাড়ির দাবি, মৃত্যুর ঠিক দু’দিন আগেও এক প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁকে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছিল।

কী ঘটেছিল সেদিন?
চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল চিকিৎসক নীতিনের সঙ্গে বিশাখার বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে দুই বাড়ির সম্পর্ক মধুর থাকলেও, বিয়ের পর থেকেই উপহার ও পণ নিয়ে অসন্তোষ শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিশাখার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হতো বাবার বাড়ি থেকে আরও সোনা ও নগদ টাকা আনার জন্য। গত মঙ্গলবার শ্বশুরবাড়ির একটি বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিশাখার ঝুলন্ত দেহ। খবর পেয়ে শিবাজিনগর থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

গ্রেফতার শাশুড়ি ও ভাসুরও:
বিশাখার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর স্বামী ডাঃ নীতিন তিলকর, শাশুড়ি ছায়া তিলকর এবং ভাসুর নিনাদ তিলকরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পণ নির্যাতনের ধারায় মামলা রুজু করেছে। বুধবারই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ এখন বাড়ির ডিজিটাল সরঞ্জাম ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এই নির্মম মৃত্যু কি পরিকল্পিত হত্যা না কি দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অসহ্য চাপে বাধ্য হয়ে আত্মহনন, তা নিয়ে এখন চলছে জোর তদন্ত। সমাজ সচেতনতার যুগেও বিয়ের ৫২ দিনের মাথায় পণের বলি হওয়া এই তরুণীর মৃত্যু ফের একবার নারী নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিল।