দুধে ঘুমের ওষুধ, তারপর বিষধর সাপের ছোবল, ফাঁস স্ত্রী ও প্রেমিকের ষড়যন্ত্র

উত্তরপ্রদেশের মিরাটে সাপের কামড়ে এক স্কুল পরিচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা আসলে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনা মনে হলেও, মিরাট পুলিশের প্রযুক্তিগত তদন্তে উঠে এসেছে স্ত্রী দামিনী ও তাঁর প্রেমিকের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র।

ঘটনার সূত্রপাত: হস্তিনাপুরের রামলীলা ময়দান এলাকার ‘কৃষ্ণ কিডস পাবলিক স্কুল’-এর পরিচালক অতুল পানওয়ার শুক্রবার সকালে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তাঁর স্ত্রী দামিনী দাবি করেছিলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়েই অতুলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ একটি বিষধর সাপও উদ্ধার করে। তবে মৃত্যুর ধরন এবং পরিবারের দেওয়া তথ্যের অসঙ্গতি দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে: তদন্তে নেমে দামিনীর ফোনের কল ডিটেইলস (CDR) পরীক্ষা করতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে বড়সড় তথ্য। দামিনীর সাথে স্কুলের চালক তুষারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মেলে। জেরায় তুষার স্বীকার করে যে, দুজনে মিলে অতুলকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী:

  • ঘটনার রাতে অতুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করা হয়।

  • এরপর তুষার ও তার দুই সহযোগী (সোনু ও উদয়) একটি বিষধর সাপ এনে কম্বলের মধ্যে ছেড়ে দেয়।

  • সেই সাপের কামড়েই অতুলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

লক্ষ্য ছিল বিমার ২০ লক্ষ টাকা: পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই খুনের পেছনে মূল কারণ ছিল অতুলের ২০ লক্ষ টাকার জীবনবিমা। বিমার টাকা পাওয়ার লোভেই এই পরিকল্পনা করা হয়। তুষার ও অন্য সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিমার টাকা মিললে তাদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া তুষার তার নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনীকে বিয়ে করার পরিকল্পনাও করেছিল। এর ২০ দিন আগেও একটি গাড়ির সাহায্যে অতুলকে ধাক্কা মেরে খুনের চেষ্টা করেছিল তুষার, কিন্তু সেইবার হেলমেট থাকায় অতুল বেঁচে যান।

পুলিশের পর্যবেক্ষণ: মিরাটের এসএসপি অবিনাশ পান্ডে জানান, বিছানায় সাপের উপস্থিতি এবং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি পুলিশের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকেছিল। তুষারের মোবাইল ফোন থেকে একটি বাক্সে রাখা সাপের ছবি উদ্ধার হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সাপুড়িয়াদের কাছ থেকে এই সাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি আপাত সাধারণ মৃত্যু যে দীর্ঘদিনের গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল হতে পারে, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ করল।