‘বিদ্রোহীরা ফিরলে আমি পদত্যাগ করব’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

২১ জুলাইয়ের সমাবেশের আগে রাজ্য রাজনীতিতে চূড়ান্ত উত্তেজনা। একদিকে আমতলায় নিজের পার্টি অফিস ভাঙার ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ, অন্যদিকে দলের বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ: শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, “যাঁরা আমার নাম করে দল ছেড়েছেন বা বিদ্রোহ করছেন, তাঁরা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসেন, তবে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেব। এটি আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ।” তাঁর দাবি, বিদ্রোহীরা আসলে ইডি-সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করতেই দল ছেড়েছেন।
আমতলায় পার্টি অফিসে বুলডোজার: শনিবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচ তলা পার্টি অফিসে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, ভবনটি নিয়মবহির্ভূত এবং বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। একাধিকবার নোটিশ দিলেও কোনো উত্তর না পাওয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
পাল্টা হুঙ্কার অভিষেকের: নিজের পার্টি অফিস ভাঙার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক বলেন, “এই অফিস বৈধ জায়গায় কেনা জমিতে বানানো হয়েছে। এর সব নথি আমাদের কাছে আছে। যারা এই প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০৩১ সালে সরকার বদলালে আমরাও একই আইনি পথে বিজেপির একটি পার্টি অফিসও আস্ত রাখব না।” এছাড়া ভাঙচুরের সময় উপস্থিতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিষয়টি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও শাসক দলের একাংশের দাবি, এই অফিসটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং এর নির্মাণের কোনো বৈধ অনুমতি ছিল না। অফিসের ভেতর থেকে ট্রাঙ্ক ও নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘিরেও জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চের ঠিক আগেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই সংঘাত ও পাল্টা হুঁশিয়ারি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় কোনো মোড় নিতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।