তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক অন্দরে কি তবে বড়সড় পালাবদল ঘটতে চলেছে? তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানা কি ছাঁটা হলো? সূত্রের খবর অনুযায়ী, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে এবার উঠে আসছে দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের নাম।
কী পরিবর্তন হতে চলেছে? দীর্ঘদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সাংগঠনিক রদবদলের হাওয়া বইতে শুরু করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর হাত থেকে রাশ সরিয়ে নিচ্ছে? দল সূত্রের খবর, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও চাঙ্গা করতে এবং একাধিক নেতার ওপর কাজের ভার বণ্টন করতে এই নতুন পরিকল্পনার ভাবনা। দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক ইঙ্গিত: দলের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন কেবলই কি রুটিন রদবদল, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলানোর কোনো কৌশল রয়েছে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো পোড় খাওয়া নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা কিছুটা সীমিত করার বার্তাই কি দিতে চাইল শীর্ষ নেতৃত্ব?
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই রদবদল নিয়ে এখনও কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই পরিবর্তন যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা যে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন কোনো বিশেষ দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।





