আশা দশমী ব্রত ২০২৬: দাম্পত্য সুখ ও মনোবাঞ্ছা পূরণের এই ব্রত কবে? জেনে নিন নিয়ম

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দশম তিথি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে গণ্য হয়। এই বিশেষ দিনে পালিত হয় ‘আশা দশমী’ ব্রত। শাস্ত্রমতে, এই দিনে দশ দিকের অধিপতি ‘আশা দেবী’-দের পূজা করলে জীবনে পরম কল্যাণ লাভ হয়। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের জন্য এই ব্রত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২৬ সালে আশা দশমীর সময়সূচী:
তিথি শুরু: ২৩ জুলাই, ২০২৬, সকাল ০৭:০৩ মিনিট।
তিথি শেষ: ২৪ জুলাই, ২০২৬, সকাল ০৯:১২ মিনিট।
পালনের দিন: উদয়া তিথি অনুযায়ী, এই বছর আশা দশমী ব্রত পালিত হবে ২৪শে জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার)।
কেন এই ব্রত পালন করবেন?
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আশা দশমীর উপবাস মনোবাঞ্ছা পূরণের সাথে যুক্ত। প্রধানত বিবাহিত মহিলারা সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের জন্য দেবী পার্বতীর আরাধনা করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, স্বামী দূরে থাকলে বা দাম্পত্য জীবনে কোনো জটিলতা থাকলে এই ব্রত পালন করলে পুনর্মিলন ঘটে এবং দাম্পত্য জীবনে শান্তি ফিরে আসে।
পূজা পদ্ধতি ও নিয়মাবলী:
১. স্নানের সংকল্প: সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাকে ব্রত পালনের সংকল্প নিন।
২. দেবীর আরাধনা: পূজার স্থান পরিষ্কার করে লাল কাপড় বিছিয়ে দেবী পার্বতীর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করুন। এরপর রোলি, চন্দন, ফুল, ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করুন।
৩. নৈবেদ্য: দেবী ও আশা দেবীদের উদ্দেশ্যে ক্ষীর নিবেদন করা শুভ বলে মনে করা হয়।
৪. ব্রতকথা: পূজার সময় ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করা বাধ্যতামূলক। এরপর দেবীর ধ্যান ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করুন।
৫. দান: ব্রত শেষে ব্রাহ্মণ, অভাবী বা দরিদ্র মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন।
কিছু বিশেষ নিয়ম:
যারা এই ব্রত পালন শুরু করতে চান, তারা সাধারণত আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষ থেকে শুরু করে অন্তত ছয় মাস বা এক-দুই বছর নিয়মিত পালন করেন।
ব্রত শেষে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা বাঞ্ছনীয়।
বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও বাধা দূর হয়।