“এই অপমান আমার প্রাপ্য নয়!”-মঞ্চে বকেয়া ভাষণ নিয়ে বিতর্কের মাঝেই ক্ষোভ কল্যাণের

একুশের মঞ্চে দীর্ঘ বক্তব্য রাখা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল। নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় ধরে বক্তব্য রাখা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে মন কষাকষি এবং কথা কাটাকাটির জেরে মঞ্চ ও অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই গোটা ঘটনায় তিনি যে ‘অত্যন্ত মর্মাহত’, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের এই দাপুটে সাংসদ।
দলীয় সূত্রে খবর, বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের কাছের সেই সমাবেশে বক্তার তালিকা বেশ দীর্ঘ ছিল। সেই কারণেই সমস্ত বক্তাকে সংক্ষিপ্ত সময়ে বক্তব্য শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে এড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে দীর্ঘ সাড়ে ২২ মিনিট ধরে ভাষণ দেন। বক্তৃতায় তিনি যেমন বিজেপিকে আক্রমণ করেন, তেমনই নিশানা করেন তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীদের।
মঞ্চে উপস্থিত সূত্রের দাবি, কল্যাণ যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁকে বক্তব্য শেষ করার ইশারা করেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে কল্যাণ বক্তব্য চালিয়ে যান। পরবর্তীতে কুণাল ঘোষও তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে বলার কারণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সেই সময় দুজনের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনার অপেক্ষা না করেই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান কল্যাণ।
নির্ধারিত সময়ের বেশি কথা বলার অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি যখন কথা বলছিলাম, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে আসেন, তাই আমাকে থামতে হয়েছিল। এরপর দিদি এলেন, এবং আমি আবারও আমার বক্তব্য থামিয়ে দিই। আমি নির্ধারিত সময়ের বেশি কথা বলিনি।”
সঙ্গে যোগ করে তিনি চরম ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “এই ধরনের অপমান আমার প্রাপ্য নয়। এই আচরণে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যখন অন্য সবাই দল ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন আমি দলের জন্য এত কঠিন লড়াই করেছি। এটা আমার সঙ্গে হওয়া উচিত হয়নি।” একুশের মঞ্চের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সাংসদের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।