২১শে জুলাই মানেই কি শুধু এক দলের একাধিপত্য? মমতাকে তুলোধনা করে বিস্ফোরক মন্তব্য সুকান্ত মজুমদারের!

রাজ্য রাজনীতির ক্যালেন্ডারে একুশে জুলাই মানেই শাসক দলের একচ্ছত্র আধিপত্য ও মেগা শো। তবে এ বছরের একুশে জুলাই শুধু তৃণমূলের একপাক্ষিক রাজনৈতিক ময়দান হয়ে থাকেনি; বরং শাসক শিবিরের পাশাপাশি অন্য একটি অংশের ‘ঋত’ তৃণমূলের শহিদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে গোটা বঙ্গ রাজনীতিতে চরম উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই রাজনৈতিক আবহেই রাজ্যবাসীর নজর কেড়ে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ ও তৃণমূলের শহিদ স্মরণ কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি। সুকান্ত মজুমদারের সোজা অভিযোগ, বিগত তিন দশক ধরে ২১শে জুলাইয়ের শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগকে সামনে রেখে শুধুই কদর্য রাজনীতি করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিনের বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের নতুন সমীকরণ এবং শহিদ স্মরণকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের ঝড় আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর ২১শে জুলাই তিলতিল করে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্তি প্রদর্শন করলেও, এবার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই আলাদা। একদিকে যখন ধর্মতলার মেগা মঞ্চ থেকে শাসক দল নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন করছে, ঠিক তখনই অন্য একটি অংশের ‘ঋত’ তৃণমূলের উপস্থিতি এবং বিজেপি শিবিরের কড়া আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। সুকান্ত মজুমদার আরও দাবি করেছেন যে, শহিদ বেদীর পবিত্রতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা ছাড়া আদতে সাধারণ মানুষের জন্য শাসক দল কোনো স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজ করেনি। বছরের পর বছর ধরে মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার একটাই নির্দিষ্ট কৌশল হিসেবে এই দিনটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ১৯৯৩ সালের পুলিশি গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর বলিদানের স্মৃতি বিজড়িত এই দিনটিকে ঘিরে প্রতি বছরই পারদ চড়ে। তবে এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বহুস্তরীয়। শাসক দলের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে একাধিক রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্য এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে ‘ঋত’ তৃণমূলের শহিদ দিবস পালনের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন তৃণমূল নেতৃত্ব তাদের শহিদ স্মরণের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা ও আন্দোলনের বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিরোধী দলগুলি এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে দুর্নীতি ও শহিদদের অবমূল্যায়নের জোরালো অভিযোগে সরব হয়েছে। সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের এই শহিদ দিবস শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের স্মরণসভা হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, বাক্যবদল এবং পারস্পরিক দোষারোপের এক প্রধান ময়দানে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।