অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ক্রমবর্ধমান প্ল্যাটফর্ম ফি এবং হিডেন চার্জে অতিষ্ট গ্রাহকদের কাছে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ‘হ্যাক’ বা কৌশল বেশ ভাইরাল হয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, এই কৌশলে মোটা অঙ্কের ডেলিভারি চার্জ এবং কমিশন এড়ানো সম্ভব। কিন্তু এই পদ্ধতি কি সত্যিই লাভজনক, নাকি কেবল একটি বিভ্রান্তি? সরেজমিনে তদন্তে উঠে এল আসল চিত্র।
কী এই ভাইরাল কৌশল? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই পদ্ধতি অনুযায়ী, গ্রাহক প্রথমে অ্যাপ থেকে অত্যন্ত সস্তায় একটি ছোট অর্ডার (যেমন একটি রুটি বা পাউরুটি) করবেন। এরপর রেস্তোরাঁকে ফোন করে বড় অর্ডারের কথা জানাবেন এবং UPI-এর মাধ্যমে রেস্তোরাঁকে সরাসরি টাকা দেবেন। দাবি করা হয়, রেস্তোরাঁ ওই বড় খাবারটি ছোট অর্ডারের সঙ্গে প্যাক করে দেবে এবং ডেলিভারি বয় সেটি পৌঁছে দেবে। এতে নাকি অ্যাপের চড়া কমিশন এবং অতিরিক্ত চার্জ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
তদন্তে বেরিয়ে এল সত্য: এই কৌশলটির কার্যকারিতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিষয়টি বাস্তবে বেশ জটিল।
রেস্তোরাঁর আপত্তি: অধিকাংশ রেস্তোরাঁই এই ঝামেলায় জড়াতে চায় না। ডেলিভারি বয়দের অভিযোগের ঝুঁকি এবং অ্যাপের কঠোর নিয়মের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ক্লাউড কিচেনের সীমাবদ্ধতা: যে সব রেস্তোরাঁ মূলত অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল, তারা এই ধরনের পদ্ধতিতে একেবারেই আগ্রহী নয়।
আসলে কি সাশ্রয় হচ্ছে? একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যাপে চলমান ডিসকাউন্ট এবং কুপন ব্যবহার করলে অনেক সময় সরাসরি অর্ডার করার চেয়ে অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার করাই সাশ্রয়ী হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় অর্ডারে অ্যাপে ২০০ টাকা ছাড় পাওয়া গেলেও, ভাইরাল হ্যাক প্রয়োগ করতে গিয়ে সেই ছাড় হাতছাড়া হতে পারে। অর্থাৎ, এই হ্যাক ট্রাই করতে গিয়ে অনেক সময় গ্রাহকরা আর্থিকভাবে লোকসানই করছেন।
প্রতারণা নাকি সাশ্রয়? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হ্যাক নিয়ে নেটপাড়ায় দ্বিধাবিভক্ত মত রয়েছে। একাংশ একে ‘বুদ্ধিদীপ্ত সাশ্রয়’ বললেও, অপর পক্ষের মতে এটি অনৈতিক এবং অ্যাপ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, অহেতুক বিভ্রান্তি এড়াতেই তারা গ্রাহকদের অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ অর্ডারের পরামর্শ দিচ্ছেন।





