আদালতের কড়া নির্দেশে সফদরজং থেকে সোজা গুরুগ্রাম! অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে বিরাট আপডেট ফাঁস!

দিল্লি হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশের পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে। সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি গুরুগ্রামের সুপরিচিত বেসরকারি হাসপাতাল মেদান্তা-য় স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য দাবিতে তাঁর আমরণ অনশন বর্তমানে ২৫তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলন চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মেদান্তা হাসপাতালের আইসিইউ-৮ ওয়ার্ডে তাঁকে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুশীলা কাটারিয়ার সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের পরপরই রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চলমান তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিবাদের মাঝেই মঙ্গলবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং সরাসরি গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে হাজির হন। সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এদিকে, গত ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অনশন আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে যেমন যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে সংসদ ভবনের সামনেও বিরোধী দলের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ প্রদর্শন করছেন।
সফদরজং হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে যখন তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তখন তাঁর ভাইটাল প্যারামিটার বা গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচকগুলি স্থিতিশীল ছিল। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, তাঁর শরীরে প্যানসাইটোপেনিয়ার সমস্যা এখনও বিদ্যমান এবং রক্তে সিরাম পটাশিয়ামের মাত্রা কিছুটা কমে ৩.৪ mEq/L-এ দাঁড়িয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে সমস্ত প্রয়োজনীয় মেডিকেল রেকর্ড ও পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণকারী চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর দায়ের করা habeas corpus বা স্থানান্তরের আইনি আবেদনের ভিত্তিতেই দিল্লি হাইকোর্ট সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে পছন্দের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।