আমের পার্টিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনী! লখনউতে খাটে বসে কৌশল নির্ধারণ যোগী-নিতিন নবীনের

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। ২০২৭ সালের মহারণকে সামনে রেখে লখনউতে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দুই দিনের নিবিড় জনসংযোগে ব্যস্ত বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রবিবার রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের বাসভবনে এমনই এক রাজনৈতিক আড্ডায় আম ভোজনের মাধ্যমে দলের ঐক্যের বার্তা দিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
আমের আসরে রাজনৈতিক কৌশল: রবিবার দুপুরে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠান ছিল বেশ ঘরোয়া। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য, রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। খাওয়ার শেষে আয়োজিত হয়েছিল এক ঐতিহ্যবাহী ‘আম উৎসব’। সেখানে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এক খাটে বসে দেশি দশেরি আম উপভোগ করছেন।
ঐক্যের বার্তা: উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের স্ত্রী নম্রতা পাঠক নিজে খাবার পরিবেশন করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত ২০২৭ সালের নির্বাচনী কৌশলের অংশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে নিতিন নবীন দলের বিভেদ দূর করে সকল প্রধান নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও হুঁশিয়ারি: গত দুই দিনের সফরে নিতিন নবীন বুথ-স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্যের মন্ত্রী ও বিধায়কদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী যোগীর বাসভবনে নৈশভোজ এবং রবিবার ব্রজেশ পাঠকের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ ও কেশব মৌর্যের বাড়িতে চা-চক্রে তিনি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। নেতাদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের নিজেদের মধ্যে লড়াই করার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়ুন।”
বিজেপির এই আম উৎসব এবং দলীয় আড্ডাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘টিম স্পিরিট’ বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।