জঙ্গলের লড়াই শেষ, এবার নতুন টার্গেট? লালকেল্লা থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ তত্ত্ব তুললেন মোদী

একসময়ে ‘আরবান নকশাল’ বা ‘শহুরে নকশাল’ শব্দবন্ধটি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক ঝড় তুলেছিল। যাঁরা অস্ত্র হাতে সরাসরি লড়াইয়ে না নেমে শহরের বিলাসী জীবনে বসেই বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন এবং তার রূপরেখা প্রস্তুত করেন, তাঁদের জন্যই এই পরিভাষার ব্যবহার শুরু হয়েছিল। এবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার সুউচ্চ প্রাচীর থেকে ঠিক একই সুরে আরও এক ধাপ এগিয়ে নতুন এক তত্ত্ব সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সশস্ত্র মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার দাবি জানানোর পাশাপাশি তিনি দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা ‘দিমাগি নকশাল’-দের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুংকার দিলেন।
সশস্ত্র নিধন সম্পন্ন, নজর এবার ‘দিমাগি’ চক্রে
এদিন লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় মাওবাদ দমনে সরকারের সাফল্যের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সাল থেকেই দেশকে নকশালমুক্ত করার যে সংকল্প নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার, সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মোদীর স্পষ্ট ঘোষণা, জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র নকশালদের ইতিমধ্যেই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশ এক বড় ধরনের সঙ্কট থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তবে সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান ঘটলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার জায়গায় নেই প্রশাসন, এমন ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, জঙ্গলের মাওবাদীরা খতম হলেও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে ‘দিমাগি নকশাল’ বা মনস্তাত্ত্বিক মাওবাদীরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মাওবাদী মানসিকতা এবং উগ্রপন্থী চিন্তাধারার আধুনিক রূপকেই এই বিশেষ শব্দবন্ধের মাধ্যমে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
অশান্তি ও বিভাজনের নতুন বিপদ
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ‘দিমাগি নকশাল’ বা এই নির্দিষ্ট মানসিকতার মানুষেরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। নানা ধরনের প্ররোচনা, ভুল বোঝাবুঝি এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে তারা সমাজে অশান্তি ও বিভাজন ছড়ানোর চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশের অগ্রগতির পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এই চক্রটি। আর সেই কারণেই এই মানসিকতার ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় এসে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এক দশকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ কেটে গিয়ে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে এবং মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সশস্ত্র লড়াইয়ের পরিসমাপ্তির পর এবার এই অদৃশ্য মানসিকতা ও চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়াইকে কতটা তীব্র করা হয়, এখন সেটাই দেখার।