স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’, আবেগে ভাসল গোটা দেশ

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। দিল্লির লালকেল্লায় এই প্রথমবার উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলো অমর দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রতি বছর লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ বাজানো হলেও, এবারই প্রথম তার আগে বাজানো হলো ‘বন্দে মাতরম’।
লালকেল্লায় প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম’ এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তেরঙা পতাকার সম্মানে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিলিমিটার লাইট ফিল্ড গান দিয়ে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। এরপরই ভারতীয় সেনার ব্যান্ডের সুমধুর সুর মূর্ছনায় গেয়ে ওঠা হয় ‘বন্দে মাতরম’। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর ভাষণে এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। চলতি বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্মের ১৫০ বছর পূর্তি হওয়ায় এবারের স্বাধীনতা দিবসে এই গানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন এই গান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ? সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের শুরু এবং শেষেও এই গান পরিবেশন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা নতুন ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ অনুযায়ী, এখন থেকে জাতীয় সঙ্গীত বা এই সমমর্যাদা সম্পন্ন গানের অবমাননা করলে কঠোর জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় ‘বন্দে মাতরম’ ঐতিহাসিকদের মতে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের এই অবিস্মরণীয় গানটি ১৮৯৬ সালে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথমবার গেয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন লালকেল্লায় ভারতীয় সেনার ব্যান্ডের মাধ্যমে এই গান বাজিয়ে যেন এক নতুন জাগরণের বার্তা দেওয়া হলো। ঐতিহাসিক সেই সুরধ্বনিতে এদিন একাত্ম হলো গোটা দেশ।