নেতাজির অবমাননায় ফুঁসছে বাংলার প্রথম শহিদ প্রীতিলতার পরিবার! যা বললেন ক্ষুব্ধ উত্তরসূরি, শুনলে শিউরে উঠবেন

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করার সাম্প্রতিক ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার প্রথম মহিলা শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের পরিবার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাজির অবমাননার মতো বেশ কিছু লজ্জাজনক ঘটনা সামনে এসেছে। এই সমস্ত অনভিপ্রেত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বোনের মেয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে ‘এশিয়ানেট নিউজ বাংলা’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সমাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন।

নেতাজির অবমাননার তীব্র নিন্দা করে প্রীতিলতার নাতনি জানিয়েছেন যে, কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভাইরাল ভিডিওতে তিনি দেখেছেন কীভাবে নেতাজির ছবিতে থুতু দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা এসব ভাবতে পারি না। এই ধরনের ঘটনা দেখলে মনে ভীষণ কষ্ট হয়, তীব্র যন্ত্রণা হয় এবং একইসঙ্গে প্রচণ্ড রাগও হয়। যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর কি এই ধরনের অপমান প্রাপ্য? আমাদের দেশ এবং সমাজ আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে? আমরা কি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব না?” অতীতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের তলায় নেতাজির ছবি থাকার মতো বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনেও তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

বর্তমান সমাজের পরিবেশ এবং স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের রূপ বদল নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রীতিলতার পরিবারের ওই সদস্যা। তাঁর মতে, এখন স্বাধীনতা দিবস এলেই বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান যে, অতীতে স্কুল জীবন ও স্কাউট করার সময় স্বাধীনতা দিবসে সারাদিন ধরে কত সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান হতো, গড়ের মাঠে জমজমাট আয়োজন থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। চারপাশের পরিস্থিতি দেখে এখন আর ভালো লাগে না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান সময়ে আপনি যদি কোনো ভালো কাজ করতে যান কিংবা কোনো খারাপ কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তবে আপনার ওপরই আক্রমণ নেমে আসবে। একা দাঁড়িয়ে কি প্রতিবাদ করা সম্ভব? সমাজের অবক্ষয় রুখতে গেলে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

রাজনীতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা তোলার প্রবণতা নিয়েও নিজের চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রীতিলতার পরিবারের ওই উত্তরসূরি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, যাঁরা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাঁরা সবাই বিষয়টি জানেন, কিন্তু তিনি নিজে থেকে কখনোই কোথাও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন না। তিনি কখনই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চাননি। উলটে বর্তমান রাজনীতিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে যে নোংরা খেলা চলছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে এই ধরনের হীন মানসিকতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত এবং সবার শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া দরকার। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের একাধিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও তিনি যে সেখানে যেতে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক, তা তাঁর এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।