বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছবে ভারতের ব্র্যান্ড! স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী ও স্বনির্ভর ভারত গড়ার স্বপ্ন সামনে রেখে আজ, শনিবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাকার থেকে অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একবিংশ শতাব্দীর উদীয়মান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি উন্নত ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কোন কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দেশকে সর্বাত্মক বিশেষ নজর দিতে হবে, তার একটি সুসংহত রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘সপ্তধারা’ বা দেশের আত্মনির্ভরতার সাতটি মূল স্তম্ভের কথা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মুকুটে নতুন পালক যোগ করতে প্রধানমন্ত্রী যে সাতটি মূল শক্তির কথা ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে প্রথমটি হলো ‘উৎপাদন শক্তি’। এর মাধ্যমে ডিজাইন তৈরি থেকে শুরু করে একেবারে শেষ পর্যায়ের যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করা পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সাশ্রয়ী ও সঠিক খরচের নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় স্তম্ভটি হলো ‘কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ’। প্রধানমন্ত্রী রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদ বা অর্গানিক ফার্মিংকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিশেষ করে বাজরা, নানা ধরনের মশলা এবং ফলমূলের খামার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি পর্যন্ত একটি নিখুঁত সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তৃতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি হলো ‘প্রযুক্তি’। ভারতকে কেবল বিদেশি প্রযুক্তির বাজার হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই-এর মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বমানের উদ্ভাবনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বা হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ‘গতিশক্তি’-র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, দেশের সমস্ত শহর, রেলপথ, বিমানবন্দর এবং আধুনিক শিল্পভিত্তিক সমুদ্রবন্দরগুলিকে একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করে একটি অতি দ্রুতগতির ও নির্বিঘ্ন বহুমুখী লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পঞ্চম ক্ষেত্রটি হলো ‘প্রতিরক্ষা শক্তি’। ড্রোন প্রযুক্তি, কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং হাইপারসনিক অস্ত্রের মতো পরবর্তী প্রজন্মের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সর্বাত্মক উদ্ভাবন ও রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে সম্পূর্ণরূপে আত্মনির্ভর করে তোলার কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকার ষষ্ঠ স্তম্ভটি হলো ‘গ্রিন ও ব্লু অর্থনীতি’। গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং উন্নত এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের পাশাপাশি মহাসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল ও বহুমুখী সামুদ্রিক সম্পদের সম্পূর্ণ ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সপ্তম এবং শেষ স্তম্ভ হিসেবে দেশের ‘সফট পাওয়ার’-এর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি, যোগব্যায়াম, আয়ুর্বেদ এবং পর্যটনকে বিশ্বদরবারে আরও জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি আধুনিক গেমিং, ভিএফএক্স (VFX), অ্যানিমেশন এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শুধু এই সাতটি ক্ষেত্রই নয়, আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনৈতিক ও করপোরেট আধিপত্য বিস্তারের জন্য বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের কথাও এদিন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান যে, আগামী দিনে বিশ্বের সেরা ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকায় অন্তত ৫০টি শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে জায়গা করে নিতে হবে। এছাড়াও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় অন্তত একটি হলেও স্বনামধন্য ভারতীয় ব্যাঙ্কের অবস্থান নিশ্চিত করা, গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ফার্মার মধ্যে একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত হওয়া, এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব আইনি বা রেটিং সংস্থা এবং শীর্ষ কনসাল্টিং ফার্মগুলির বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তালিকায় ভারতের নিজস্ব টেক কোম্পানির শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করে এমন সব বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেগুলির নাম শোনামাত্র গোটা বিশ্বের মানুষ দারুণ উৎসাহের সঙ্গে ভারতকে চিনতে পারে।