শিক্ষক নেই, জল-বিদ্যুতের অভাব! জেন-জি আন্দোলন ও দুর্নীতি নিয়ে কী বার্তা দিলেন যোগগুরু?

দেশজুড়ে চলমান বিভিন্ন প্রতিবাদ ও আন্দোলন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া মন্তব্য করলেন প্রখ্যাত যোগগুরু বাবা রামদেব। সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের পবিত্র উপলক্ষ্যে হরিদ্বারে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি নিয়ে একগুচ্ছ গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, দেশের একটা বড় অংশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা আগামী দিনে আরও বড় সংকটের রূপ নিতে পারে।

যোগগুরু বাবা রামদেবের স্পষ্ট অভিযোগ, দেশের বহু ছোট ছোট স্কুল ও কলেজগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং শৌচাগারের মতো অতি মৌলিক সুযোগ-সুবিধারও চরম অভাব রয়েছে। এই দুরবস্থার কারণে ছাত্রছাত্রীরা বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ যেখানে সব ধরনের পরিকাঠামো বা সুযোগ-সুবিধা উপলব্ধ রয়েছে, সেখানেও আবার ব্যাপক হারে জালিয়াতি, নকল করার প্রবণতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটছে। বর্তমান প্রজন্মের যুবসমাজ তথা ‘জেন-জি’র পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও এই সামগ্রিক অস্থিরতার জন্য সরাসরি সরকারি অব্যবস্থাপনাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বাবা রামদেব দাবি করেছেন যে, দেশের প্রায় ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার সম্পূর্ণ জালিয়াতিপূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট। মেধার সঠিক মূল্যায়ন করার পরিবর্তে নিজেদের জাতি, শ্রেণি, সম্প্রদায় এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শের লোকেদেরই চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয় এবং যোগ্য প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়। এই ধরনের দুর্নীতিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, একদিকে আমরা ‘সত্যমেব জয়তে’ বা সত্যের জয়ের কথা বলি, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ ও কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে পূর্ব-পরিকল্পিত উপায়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরির নিয়োগে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রামদেব বলেন যে, সমাজে যেভাবে ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে দেশের সংসদে শাসক ও বিরোধী দল এমনভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে যেন মনে হয় তারা ভারত ও পাকিস্তান—দুই ভিন্ন শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যে, সময় থাকতে যদি এই সমস্ত গভীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন না করা হয়, তবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে থামানো যাবে না এবং আরও বড় আকারে গণআন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। যদিও তিনি সরাসরি নৈরাজ্য বা হিংসাত্মক বিক্ষোভকে সমর্থন করেন না, তবুও দেশবাসীর স্বার্থে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তিনি নিজেই আরেকটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।