বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পর শুভেন্দু! ১৫ বছর পর বদল প্রথা, কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এই স্বাধীনতা দিবসে। দীর্ঘ ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কোনো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দূরদর্শনের পর্দায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশে সরাসরি বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের সরকারি কুচকাওয়াজে পতাকা উত্তোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের ঠিক পরেই সম্প্রচারিত হয় মুখ্যমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বার্তা।
প্রথা ভেঙে দূরদর্শনে ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী
২০০৬ সালে শেষবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। এরপর গত ১৫ বছর ধরে বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের এই বার্তা দেওয়ার প্রথা কার্যত বন্ধ ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই রীতি অনুসরণ করা হয়নি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেই ঐতিহ্য ফের চালু হলো।
কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
আড়াই মিনিটের এই বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা এবং বিনয়-বাদল-দীনেশের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পবিত্র অঙ্গীকার।”
বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী জোর দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্নের ওপর। এই লক্ষ্যপূরণে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি যুব সমাজের কর্মসংস্থান, মা-বোনেদের স্বনির্ভরতা, এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। তেরঙা পতাকার তাৎপর্য এবং জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাকে অক্ষুন্ন রাখার আহ্বানও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এবারের স্বাধীনতা দিবস বাংলার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার রেড রোডে পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে এবং পুলিশ আধিকারিকদের সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত করে রাজ্য প্রশাসনের নতুন ধারার সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দূরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বাংলার প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।