সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের আর দুশ্চিন্তা নয়! চিকিৎসা পরিষেবায় মিলবে বড় স্বস্তি

রাজ্য সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর। প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এর আওতায় চিকিৎসা খরচের হার পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসার প্রকৃত খরচের সঙ্গে হেলথ স্কিমে অনুমোদিত খরচের যে বিপুল ফারাক ছিল, এই পরিবর্তনের ফলে তা অনেকটাই মিটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চিকিৎসার নতুন হার ও শ্রেণীবিভাগ

রাজ্য সরকার চিকিৎসার খরচের নতুন হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সংশোধিত ‘সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিম’ (CGHS)-এর রেটকে ভিত্তি হিসেবে ধরেছে। চিকিৎসার এই হার শহর ও হাসপাতালের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হবে:

  • শহরের ভিত্তিতে: কলকাতা-সহ X বা Tier-I শহরে নির্ধারিত হারের ১০০%, আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ির মতো Y বা Tier-II শহরে ৯০% এবং Z শ্রেণির এলাকাগুলিতে ৮০% টাকা অনুমোদন করা হবে।

  • হাসপাতালের ভিত্তিতে: Class-I হাসপাতাল হলে শহরের নির্ধারিত হারের পুরো টাকাই মিলবে। তবে Class-II হাসপাতালের ক্ষেত্রে মিলবে নির্ধারিত হারের ৮০%।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকার রোগীর সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদি কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুরনো WBHS-এর হার নতুন CGHS-এর হারের চেয়ে বেশি হয়, তবে পুরনো হারটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, যে হারটি রোগীর জন্য বেশি সুবিধাজনক, সেই হারেই বিল অনুমোদিত হবে।

স্কিমের বর্তমান পরিধি ও প্রাসঙ্গিকতা

২০০৯ সালে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এই হেলথ স্কিম চালু করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় ২০০-র বেশি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২.২৩ লক্ষের বেশি কর্মী এবং প্রায় ১.৩০ লক্ষ পেনশনভোগী এই স্কিমে নিবন্ধিত। পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট উপভোক্তার সংখ্যা ১০.২৭ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

২০১৪ সালে এই স্কিমে শেষ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ক্যাশলেস ইনডোর চিকিৎসার সুবিধা চালু হয়। এরপর ২০২৩ সালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সর্বোচ্চ সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হয়েছিল। এবার চিকিৎসা খরচের হার সংশোধনের ফলে হাসপাতালগুলির সঙ্গে খরচ নিয়ে রোগীদের দীর্ঘদিনের ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নয়া নির্দেশিকা চিকিৎসা পরিষেবায় এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।