ইউক্রেনে আমেরিকার কারখানায় রাশিয়ার হামলা! যুদ্ধবিরতিতে নয়া জট?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এবার এক নতুন মোড় সামনে এসেছে। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি আমেরিকান কারখানায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছেন এবং বলেছেন, এটি একটি ইচ্ছাকৃত হামলা।

কেন এই হামলা?
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যে কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে ড্রোন তৈরি করা হত এবং মিসাইল মজুত রাখা হত। তাদের মতে, এখান থেকেই মিসাইল ছোঁড়ার ব্যবস্থা ছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এই কারখানার সাথে সেনাবাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই।

জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়া খুব ভালো করেই জানত মিসাইল কোথা থেকে ছোঁড়া হয়, তবুও তারা আমেরিকান কারখানায় হামলা করেছে। তিনি মনে করেন, বিশ্ব যখন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার কাছে জবাব চাইছে, তখন রাশিয়া এই ধরনের হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের ভূমিকা এবং এই হামলার প্রভাব
আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছেন। তিনি কখনও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার কখনও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই হামলার ঠিক একদিন আগেই ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে ইউক্রেনকে যথেষ্ট অস্ত্র দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের মতে, কোনো দেশ যদি পাল্টা হামলা চালাতে না পারে, তাহলে যুদ্ধে জেতা অসম্ভব। তিনি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য পুতিনের দেশের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এমনকি, ভারতের ওপরও শুল্ক বাড়িয়েছেন কারণ ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনে।

সবকিছুর পরেও যুদ্ধ বন্ধ করা যায়নি। এখন জেলেনস্কির এই দাবির পর পরিস্থিতি নতুন কী মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।