বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ময়দানে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই সবুজ-গেরুয়া দ্বন্দ্বে উত্তাল ক্রীড়ামহল। একদিকে যেমন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ক্রীড়া কর্তারা আক্রান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে রাতারাতি ‘ভোল’ পাল্টানোর হিড়িক পড়েছে ময়দানের অন্দরে।
আক্রান্ত মোহনবাগানের হকি সচিব ভোটের ফল বেরোনোর পরপরই হাওড়ায় চরম হেনস্থার শিকার হলেন মোহনবাগান ক্লাবের হকি সচিব শ্যামল মিত্র। হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামলবাবু দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রী অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়েই তিনি হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব পদ দখল করেছিলেন। বুধবার সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটল। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে তাঁর মার খাওয়ার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ‘পপ’ এখন বিজেপির উল্লাসে! সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে মোহনবাগানের প্রভাবশালী সদস্য সিদ্ধার্থ রায় ওরফে ‘পপ’ রায়কে নিয়ে। যাঁর তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা ময়দানের ওপেন সিক্রেট, সেই পপ রায়কে দেখা গেল কাশীপুর-বেলগাছিয়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে বিজয় উল্লাসে মাততে। দলবদলের জল্পনা উসকে দিলেও পপ রায়ের সাফাই, “আমি এখনও তৃণমূল সমর্থক, রিতেশ আমার বন্ধু তাই শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছি।” তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ ময়দানপ্রেমীদের একাংশ।
মাঠ দখল ও প্রমোটিং রুখতে হুঁশিয়ারি উত্তর দমদমের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন ময়দানের ‘মাঠ মাফিয়া’দের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, খেলার মাঠ দখল করে কোনো প্রকার নির্মাণকাজ বা প্রমোটিং সহ্য করা হবে না। সৌরভের কথায়, “প্রমোটিংয়ের চক্রান্ত বন্ধ করে মাঠগুলোকে প্রকৃত খেলোয়াড়দের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিস্ফোরক মনোজ তিওয়ারি, আশাবাদী সৌভিক রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তথা ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে বোমা ফাটিয়েছেন। তাঁর নিশানায় এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূল আমলের অব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের তারকা ফুটবলার সৌভিক চক্রবর্তী নতুন সরকারের কাছে পাহাড়প্রমাণ প্রত্যাশা রেখেছেন। তাঁর আশা, এবার বাংলায় ক্রীড়া পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে। সৌভিক বলেন, “সঠিক বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো পেলে বাংলার তরুণ প্রতিভা বিশ্বের দরবারে সাফল্যের পথ খুঁজে পাবে।”
তৃণমূল জমানার ক্ষোভ আর নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা—এই দুইয়ের টানাপড়েনে এখন সরগরম কলকাতা ময়দান। এখন দেখার, নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতি কোন দিকে মোড় নেয়।





