ফ্রিজে দই আছে? ১০ মিনিটেই বানিয়ে ফেলুন বিশ্বের সেরা ৫ কুলিং ডিশ, যা খেলে শরীর হবে হিমশীতল!

বৈশাখের তেতে পোড়া দুপুর। বাইরে পা দিলেই মনে হচ্ছে আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। ঘাম আর অস্বস্তিতে নাজেহাল অবস্থা। এই সময়ে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে বাঙালির প্রথম পছন্দ টক দই। প্রোটিন আর প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই হজমে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশন আটকায়। কিন্তু রোজ সেই একঘেয়ে দই-ভাত, রায়তা বা লস্যি খেতে কারই বা ভালো লাগে? অথচ ফ্রিজ ভর্তি দই পড়ে আছে!

চিন্তা নেই, বিদেশে কিন্তু দই দিয়ে কেবল মিষ্টি তৈরি হয় না। গ্রিস থেকে ইরান— দই দিয়ে তৈরি হয় জিভে জল আনা সব সালাদ, ডিপ এবং মেইন কোর্স। আজ আপনাদের জানাবো দইয়ের এমন ৫টি বিদেশি রেসিপি, যা বানাতে ১০ মিনিটও লাগবে না, অথচ স্বাদে হবে বিশ্বমানের।

১. গ্রিসের ‘জাজিকি’ (Tzatziki):

এটি গ্রিকদের জাতীয় ডিপ। আমাদের শসা-রায়তার মতন হলেও স্বাদে অনেক বেশি সতেজ।

উপকরণ: ১ কাপ ঘন টক দই, ১টি গ্রেট করা শসা (জল চিপে নেওয়া), ১ কোয়া রসুন বাটা, ১ চামচ অলিভ অয়েল, লেবুর রস ও ধনেপাতা কুচি।

পদ্ধতি: সব উপকরণ দইয়ের সাথে মিশিয়ে ১৫ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। গ্রিলড চিকেন বা রুটির সাথে এটি অতুলনীয়।

২. তুরস্কের ‘কাচিক’ (Cacık):

এটি ঠিক রায়তা নয়, বরং একটি ঠান্ডা স্যুপ। ডিহাইড্রেশনের মহৌষধ।

উপকরণ: ১ কাপ দই, ১ কাপ ঠান্ডা জল, শসা কুচি, পুদিনা পাতা ও অলিভ অয়েল।

পদ্ধতি: দই ও জল ফেটিয়ে পাতলা করে তাতে বাকি সব মিশিয়ে নিন। বরফ কুচি দিয়ে গ্লাসে করে খান। ইফতারে বা ভারী খাবারের পর এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৩. লেবাননের ‘লাবনেহ’ (Labneh):

একে দইয়ের পনির বা ক্রিম চিজ বলা যায়। এটি প্রোটিনে ঠাসা এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

উপকরণ: ২ কাপ দই, সামান্য নুন এবং একটি মসলিন কাপড়।

পদ্ধতি: দইয়ে নুন মিশিয়ে কাপড় বেঁধে ৮-১০ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন। জল ঝরে গিয়ে তৈরি হবে ক্রিমি বল। উপরে অলিভ অয়েল আর চিলি ফ্লেক্স ছড়িয়ে পাউরুটির সাথে খান।

৪. তুরস্কের ‘আয়রান’ (Ayran):

এটি তুর্কি ঘোল। আমাদের নোনতা লস্যির চেয়েও পাতলা ও ফেনা ফেনা। বিরিয়ানি বা কাবাবের সাথে এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে।

উপকরণ: ১ কাপ দই, ২ কাপ জল, বিট নুন ও বরফ।

পদ্ধতি: সব মিক্সিতে ৩০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করুন যাতে উপরে ফেনা ওঠে। হিট স্ট্রোক আটকাতে এর জুড়ি মেলা ভার।

৫. ইরানের ‘মাস্ত-ও-খিয়ার’ (Mast-o-Khiar):

পার্সিয়ান স্টাইল এই রায়তায় থাকে আখরোট ও কিশমিশের ক্রাঞ্চ।

উপকরণ: ঘন দই, শসা কুচি, আখরোট কুচি, কিশমিশ ও কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল।

পদ্ধতি: সব মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। গোলাপ জল আর দইয়ের যুগলবন্দী আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিমেষে কমিয়ে দেবে।

কেন দই গরমে সেরা?

দইয়ের ভালো ব্যাকটেরিয়া পেটের গোলমাল ও গ্যাস আটকায়। ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটায়। এছাড়া দই একটি প্রাকৃতিক ‘বডি কুল্যান্ট’, যা লু লাগা থেকে রক্ষা করে। এই গরমে ফ্রিজের দই দিয়ে শুধু ঘোল না বানিয়ে ট্রাই করুন এই আন্তর্জাতিক রেসিপিগুলো। অতিথি আপ্যায়ন হোক বা বিকেলের স্ন্যাক্স— সবাই ইমপ্রেসড হতে বাধ্য!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy