চাষির স্বপ্ন যখন সার্থক হওয়ার সময় আসে, ঠিক তখনই অনেক সময় প্রকৃতির বালাই বা পুষ্টির অভাবে মাথায় হাত পড়ে বাগান মালিকদের। আম পাকার মুখে হঠাৎ ফল ফেটে যাওয়া, কুঁচকে যাওয়া কিংবা ফলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে কালচে বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া—বর্তমানে আম চাষিদের কাছে এক বিভীষিকার নাম। বাজারে এই ধরনের ফাটা বা বিবর্ণ আম নিয়ে গেলে তার দাম পাওয়া যায় না বললেই চলে। অনেক সময় চাষিরা একে কোনো ছত্রাকঘটিত রোগ বলে ভুল করেন, কিন্তু কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আদতে কোনো রোগ নয়, বরং মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা এক পুষ্টির সংকট।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ইনচার্জ ডঃ আই. কে. কুশওয়াহা জানিয়েছেন, আমের এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের মূল কারণ হলো গাছে নির্দিষ্ট কিছু অণুপুষ্টির (Micronutrients) অভাব। বিশেষ করে বোরন এবং বোরিক অ্যাসিডের ঘাটতি থাকলে আমের বাইরের স্তরে প্রয়োজনীয় স্থিতিস্থাপকতা থাকে না। ফলে আম যখন বড় হতে শুরু করে, তখন ভিতরের চাপে বাইরের খোসা ফেটে যায়। এর ফলে শুধু ফলের গুণগত মানই নষ্ট হয় না, উৎপাদনের পরিমাণও মারাত্মকভাবে কমে যায়।
সমাধানের অব্যর্থ উপায়:
ডঃ কুশওয়াহা এই সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী তিনটি বৈজ্ঞানিক দাওয়াইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. বোরিক অ্যাসিডের প্রয়োগ: ফলের বাইরের স্তর বা ত্বককে শক্তিশালী করতে বোরিক অ্যাসিড জাদুর মতো কাজ করে। ১ লিটার জলে মাত্র ১ গ্রাম বোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে গাছে ভালো করে স্প্রে করতে হবে। এটি আমের খোসাকে ভঙ্গুর হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
২. বোরনের ম্যাজিক: আমের আকার এবং রঙের জেল্লা বাড়াতে বোরন অত্যন্ত কার্যকর। এর সঠিক অনুপাত হলো— ১ লিটার জলে ৩ গ্রাম বোরন মিশিয়ে স্প্রে করা। এটি আমকে সুডৌল ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
৩. নিয়মিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট স্প্রে: আম যখন মটরদানার মতো ছোট আকারে থাকে, তখন থেকেই পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে। প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর অণুপুষ্টির মিশ্রণ স্প্রে করলে আমের স্বাভাবিক রঙ ও আকার বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চাষিদের উচিত ফলের আকার নষ্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা। এতে আমের মিষ্টতা ও উজ্জ্বলতা যেমন বাড়বে, তেমনই ফল রপ্তানিযোগ্য হয়ে উঠবে। সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনাই পারে কৃষকের সারা বছরের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে।





