জিভের রঙই বলে দেবে আপনার শরীরের ভেতরের খবর! জেনে নিন কোন রঙ কীসের ইঙ্গিত

শরীর খারাপ লাগলে ডাক্তাররা প্রথমেই রোগীর মুখ খুলে জিভ দেখতে চান। কখনও ভেবেছেন কেন? আসলে জিভের রঙ, আকার এবং তার ওপরের আস্তরণ দেখে শরীরের ভেতরের অনেক সমস্যার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। কয়েক শতাব্দী পুরনো এই পদ্ধতি আসলে চীনা চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনিও বাড়িতে বসেই নিজের জিভ দেখে শরীরের কোথায় সমস্যা হতে পারে তা আঁচ করতে পারেন।

জিভের স্বাভাবিক অবস্থা:

সুস্থ শরীরে জিভের স্বাভাবিক রঙ হালকা গোলাপি। এর অর্থ আপনার শরীরে বিশেষ কোনো সমস্যা নেই এবং পরিপাকতন্ত্রও সঠিকভাবে কাজ করছে।

জিভের ওপরের আস্তরণ যা বলে:

১) পাতলা সাদা আবরণ: জিভ মূলত আমাদের পরিপাকতন্ত্রের অবস্থা জানায়, কারণ এই তন্ত্রের শুরুই জিভ থেকে। জিভের ওপর যদি হালকা সাদা একটি আস্তরণ থাকে, তাহলে বুঝবেন আপনার হজমে কোনো সমস্যা নেই এবং পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করছে।

২) মোটা সাদা আস্তরণ: এটি শরীর খারাপের একটি সংকেত। এর অর্থ হতে পারে আপনার শরীরে কোথাও আঘাত লেগেছে অথবা ভেতরে ভেতরে কোনো অসুস্থতা বাসা বাঁধছে। শরীরের কোনো একটি অংশ হয়তো ঠিকমতো কাজ করছে না।

৩) হলুদ আস্তরণ: সাধারণত জ্বর হলে জিভের ওপর হলুদ আস্তরণ পড়ে। দেহের তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে বাড়তে পারে, যেমন – ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা শরীরের কোনো অংশে প্রদাহ।

৪) উপরিভাগে লাল চাকা-চাকা চামড়া উঠে যাওয়া: এর অর্থ শরীরে শক্তির অভাব রয়েছে। কোনো অ্যালার্জির কারণেও এমনটা হতে পারে। এটি চর্মরোগ বা র‌্যাশের লক্ষণও হতে পারে।

জিভের অস্বাভাবিক রঙ ও তার ইঙ্গিত:

১) ফ্যাকাশে: জিভের রঙ যদি ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে হজম ঠিকমতো হচ্ছে না এবং শরীরে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা রয়েছে। এর সঙ্গে যদি জিভ বার বার শুকিয়ে যায়, তাহলে তা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও ইনসমনিয়া ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

২) উজ্জ্বল লাল রঙ: এই ধরনের রঙ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোথাও সংক্রমণ রয়েছে। প্রথমে জিভের ডগার দিকটা লাল থাকবে এবং পরে তা পুরো জিভে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩) জিভের পাশে লাল রঙ: অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার, প্রচুর ফ্যাট জাতীয় খাবার এবং অ্যালকোহলের মাত্রা শরীরে বেশি হলে জিভের পাশে লাল রঙ দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলেও এমনটা হতে পারে।

৪) নীল রঙ: শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলে জিভের রঙ পরিবর্তিত হয়ে নীল বর্ণ ধারণ করতে পারে। ডাক্তারি ভাষায় একে সায়ানোসিস বলে। যদি এমনটা দেখেন, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান। এটি রক্তে সমস্যা বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

৫) কালো রঙ: জন্মগতভাবে কারও কারও জিভের রঙ কালো থাকতে পারে। তবে যদি হঠাৎ করে জিভের রঙ কালো দেখেন, তাহলে বুঝবেন জিভে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া জমা হয়েছে। তবে এটি হঠাৎ করে হবে না, প্রথমে হলুদ, তারপর বাদামী এবং শেষে কালো রঙ ধারণ করবে।

৬) হলুদ রঙ: জিভের রঙ সাধারণত হলুদ হয় না। যখন এমনটা হবে, তখন বুঝবেন লিভারে বড় কোনো সমস্যা রয়েছে, সম্ভবত জন্ডিস হয়েছে। দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৭) পার্পল রঙ: দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে কোনো সমস্যা থাকলে জিভের রঙ পার্পল হতে শুরু করে। এর অর্থ শরীরে ভিটামিন বি-এর মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।

মনে রাখবেন, জিভ শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যদিও আমরা অনেকেই এর যত্ন নিই না। প্রতিদিন জিভ পরিষ্কার রাখলে অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। রোজ সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় জিভ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। সুস্থ থাকুন।